বঙ্গে ভোটের উত্তাপ চরমে, আর সেই আবহেই আজ, শনিবার প্রচারে নামছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর একাধিক জনসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্যে সরকার গঠনে নিজেদের ‘কিংমেকার’ হিসেবে তুলে ধরল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি—এই নির্বাচনে তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসে শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের চাবিকাঠি থাকবে কংগ্রেসের হাতেই।
শনিবারের কর্মসূচি অনুযায়ী, হুগলির শ্রীরামপুরে প্রথম সভা করবেন রাহুল। সেখানে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ জেলার প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। এরপর হেলিকপ্টারে শহিদ মিনারের সভায় যোগ দেবেন তিনি। দিনের শেষ কর্মসূচি মেটিয়াবুরুজ


এরই মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তাপস রায়-এর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, নীরব মোদির ব্যাঙ্ক গ্যারান্টিতে নাকি রাহুল গান্ধীর সই রয়েছে। কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে।
এদিকে কলকাতায় এসে দলের অবস্থান আরও জোরালো করেছেন কংগ্রেসের দুই রাজ্যসভার সাংসদ— প্রমদ তিওারি এবং অখিলেশ প্রসাদ সিং। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ২০ বছর পর এককভাবে লড়াই করছে কংগ্রেস, আর সেই লড়াইয়ে তারা রাজ্যে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবে।
প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, “রাজ্যের রাজনীতিতে দুই বড় দলের দিকে নজর থাকলেও কংগ্রেস তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। আগামিদিনে সরকার গঠনে আমরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেব।” একই সঙ্গে তিনি অমিত শা-কে নিশানা করে দেশের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের অধীনস্থ এলাকাতেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ কেন্দ্রীয় সরকার।


অন্যদিকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি—রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি চলছে। অখিলেশ প্রসাদ সিং আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “কংগ্রেস ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে কোনও সরকার গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প—সব ক্ষেত্রেই রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে।”
সব মিলিয়ে, রাহুল গান্ধীর সভার আগে কংগ্রেসের এই আত্মবিশ্বাসী সুর রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।








