নজরবন্দি ব্যুরোঃ আজ সকালবেলা নিজাম প্যালেসের উদ্দেশে রওনা দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের পনেরো মিনিট আগেই পৌঁছে যান সিবিআই দফতরে। তাঁকে নিজাম প্যালেসের ১৫ তলায় দুর্নীতিদমন শাখার দফতরে বেশ কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। এদিন সিবিআইয়ের কাছে আয়কর সংক্রান্ত নথি ও ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট জমা দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর জেরা শুরু হয় পার্থ বাবুর। টানা ৮ ঘন্টা ম্যারাথন জেরায় বিপর্যস্ত হলেও ভাঙলেন না পার্থ বাবু।
আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে দুর্নীতি, ২৩ হাসপাতালকে ৫ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা জরিমানা রাজ্যের।


আজ কি নিয়ে জেরা চলল? সূত্রের দাবি, এসএসসির নিয়োগে শান্তিপ্রসাদ সিন্হার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনিই এই কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই বিষয়েই জিজ্ঞসাবাদের জন্য পার্থকে সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সিবিআই জানতে চায়, কার নির্দেশে বেআইনি নিয়োগ করেছিল কমিটি।

সিবিআই সূত্রে খবর, গত বুধবারের জেরার সময় সিবিআইকে পার্থ জানিয়েছিলেন এই কমিটি তিনি গঠন করলেও এই কমিটির উপর তাঁর কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্তু তিনি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেন এই কমিটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেননি? রাজ্যের বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা কীভাবে চাকরি পেলেন, সে সংক্রান্ত তথ্য তাঁর কাছ থেকে জানতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।



এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে লিখিত বয়ান নেন সিবিআই আধিকারিকরা। যদিও সব প্রশ্নের উত্তরেই পার্থ বাবু কমবেশি একটাই উত্তর দেন, ‘আমি কিছুই জানিনা।’ একজন মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে অঙ্কিতার চাকরি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারলেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সে সম্পর্কে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে সিবিআই আধিকারিকদের মধ্যে। সূত্রের খবর, কিছুদিনের মধ্যেই আবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তলব করবে সিবিআই।
অবশেষে CBI-কে লিখিত বয়ান পার্থর, আট ঘন্টা ম্যারাথন জেরায় কি তথ্য দিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী?

এদিকে, সিবিআই এর হাত থেকে রক্ষা পেতে সুপ্রিম কোর্টে পৃথক মামলা দায়ের করেছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টও খারিজ করে দিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচের আবেদন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সবোর্চ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু পার্থ চট্টপাধ্যায়ের সেই আবেদনে রয়েছে একাধিক ত্রুটি। সেই কারনেই মামলা গৃহীত হলনা সর্বোচ্চ আদালতে।







