নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্য সরকারের অন্যতম বড় প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মস্তিস্ক প্রসূত জনপ্রিয় এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প নিয়ে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা জালিয়াতি যে বরদাস্ত করা হবে না, তা একাধিকবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতেও অবশ্য অনেকের হুঁশ ফেরেনি। তাই এবার কঠোর পদক্ষেপ নিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। মাত্র তিন মাসে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি সহ বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে মোট ২৩টি বেসরকারি হাসপাতালকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করল রাজ্য।
আরও পড়ুনঃ একাদশ আর নয়, বিষয় নির্বাচন এবার নবম শ্রেণী থেকেই!
সব মিলিয়ে জরিমানার পরিমাণ ৫ কোটি ৩১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। সব থেকে বড় কথা শুধু জরিমানা করেই থেমে থাকেনি রাজ্য, ইতিমধ্যে জরিমানার সিংহভাগ (৯৫ শতাংশ) টাকাই স্বাস্থ্যদপ্তর আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। সূত্রের খবর, বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই হাসপাতালগুলিতে দুই থেকে ছ’মাস পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাদের বলা হয়, আগে জরিমানার টাকা মেটাও, তারপর স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রোগী ভর্তি পুনরায় চালু হবে।

পাশাপশি বলা হয়েছিল, বকেয়া বিলের অর্থও মিটিয়ে দেওয়া হবে জরিমানার টাকা মেটানোর পর। এতেই কাজ হয়। বেশিরভাগ হাসপাতাল জরিমানার টাকা মিটিয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, ২৩টি হাসপাতালের মধ্যে কলকাতার দু’টি, উত্তর ২৪ পরগনার একটি, দঃ ২৪ পরগনার চারটি, হুগলির একটি, নদীয়ার চারটি, বীরভূমের দু’টি, বাঁকুড়ার চারটি, পূর্ব মেদিনীপুরের একটি এবং মালদহ, মুর্শিদাবাদের দু’টি করে হাসপাতাল বা নার্সিংহোম রয়েছে।

জেলাভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী কলকাতার দু’টি বেসরকারি হাসপাতালের উপর সবচেয়ে বেশি জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। বেহালা ও পার্ক সার্কাসে অবস্থিত এই দু’টি হাসপাতালকে মোট ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অঙ্কে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বীরভূম। ওই জেলার চারটি হাসপাতালকে প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা জরিমানা মেটাতে হয়েছে। বীরভূমের একটি নার্সিংহোম সবচেয়ে বেশি টাকা জরিমানা গুনেছে। ৯৪ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে তাদের। তারপরই আছে হুগলির একটি নার্সিংহোম।
স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে দুর্নীতি, ২৩ হাসপাতালকে ৫ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা জরিমানা রাজ্যের

উল্লেখ্য, সবার জন্যে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় সাড়ে সাত কোটি জনগন কে নিয়ে আসার লক্ষ্য ছিল রাজ্য সরকারের। পরে সেই প্রকল্প হয়ে যায় সার্বজনীন। বলা হয়, রাজ্যের যে সব বাসিন্দা কোনরকম স্বাস্থ্য জনিত বিমার সুযোগ পাননা। তাঁরা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাবেন সরকারের তরফে।



