নজরবন্দি ব্যুরোঃ একাদশ থেকে নয়, নবম শ্রেণি থেকেই ছাত্রছাত্রীদের পছন্দের স্ট্রিম (কলা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান) বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে এবার। নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। নবগঠিত সিলেবাস কমিটির অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এমনই প্রস্তাবের কথা উঠে এসেছে। আইসিএসই বা সিবিএসই স্কুলগুলির পড়ুয়ারা যেমন বিষয় বাছাই করে নিতে পারে নবম শ্রেণি থেকে, তেমনই অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যের শিক্ষা বোর্ডও সেই পথে হাঁটতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ সহায় সেই মুখ্যমন্ত্রীই, মমতার হস্তক্ষেপে লাল-হলুদের ইনভেস্টর ইমামি
কেন্দ্রীয় সরকার যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে, তাতেও এই ধরনের প্রস্তাব ছিল। তবে রাজ্য সরকার কিছু না ভেবে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করতে চায় না এখনই। তাই পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে নবম শ্রেণি থেকে বিষয় নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে সিলেবাসে বদল আনার প্রয়োজন ছিল। সেই কথাবার্তাই ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।

সিলেবাস কমিটির এক সদস্য বলেছেন, “যারা ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চায়, তাদের কলাবিভাগের বিষয়গুলি অত বিস্তারিত না পড়লেও চলে। আবার বাণিজ্য যাদের পছন্দের স্ট্রিম, তারা কেনই বা পদার্থবিদ্যার খুঁটিনাটি পড়বে? তার চেয়ে নিজস্ব বিষয় নিয়ে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা করলেই কেরিয়ারে সুবিধা হবে। যদিও শিক্ষামহলের রক্ষণশীল শ্রেণি এটাকে কীভাবে গ্রহণ করে, সেটাও একটা দেখার বিষয়।”

সূত্রের খবর, বিষয়গুলিকে বেসিক এবং অ্যাডভান্সড কোর্সে ভাগ করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। যারা যে বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে পড়তে চায়, তারা সেই বিষয়ের অ্যাডভান্সড কোর্সগুলি পড়বে। অন্যান্য বিষয়গুলির জন্য বেসিক কোর্স। ১ জুন সিলেবাস কমিটির মূল বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে সদস্যরা তাঁদের মতামত জানাবেন। উপস্থিত থাকবেন শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরাও। তারপর কমিটির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কর্তাদের সঙ্গে। এই প্রক্রিয়া শেষে শিক্ষাদপ্তরের সবুজ সঙ্কেত মিললেই সুপারিশ কার্যকর করার কথা ভাবা হবে।
একাদশ আর নয়, বিষয় নির্বাচন এবার নবম শ্রেণী থেকেই!

সিলেবাস কমিটির অন্য এক সদস্য জানিয়েছেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, পাঠ্যক্রম যেন কলকাতার কথা মাথায় রেখে তৈরি না হয়। জোর দিতে হবে গোটা রাজ্যের নির্যাস এবং প্রতিনিধিত্বে। প্রত্যন্ত জেলার ছাত্রছাত্রীরা যাতে সিলেবাসের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে, সেদিকটাও দেখতে বলা হয়েছে। এই কারণেই জেলার স্কুলগুলির শিক্ষকদের সঙ্গেও আলোচনার নির্দেশ এসেছে কমিটিগুলির কাছে।’



