সংসদে ফের উত্তাল বিরোধীরা, অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে বিক্ষোভে সরব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

জন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ ও রামমন্দিরের অনুদান চুরির অভিযোগে অমিত শাহের বিবৃতি দাবি বিরোধীদের; এফসিআরএ বিল ও ডিলিমিটেশন নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: সংসদে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বিরোধীদের প্রতিবাদ। যন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং রামমন্দিরের অনুদান চুরির অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বিবৃতি দাবি করে সোমবার সংসদে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে অবস্থান না জানানো পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা কম।

বিরোধীদের এই অবস্থানের পাশে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi Vadra) জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে স্পষ্ট ও সরকারি বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে। তাঁর বক্তব্য, সংসদের ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ও প্রশ্নের জবাব সরকারের কাছ থেকেই আসা প্রয়োজন।

জন্তর মন্তরে ছাত্রদের প্রতিবাদ ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। তাঁদের দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করা হোক এবং বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে সংসদে বক্তব্য রাখুন।

একই সঙ্গে রামমন্দিরের অনুদান চুরির অভিযোগ নিয়েও সংসদে জবাবদিহির দাবি তুলেছে বিরোধীরা। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান কী, তা স্পষ্ট করার জন্যই অমিত শাহের বিবৃতি চাওয়া হচ্ছে বলে বিরোধী সাংসদদের বক্তব্য।

সংসদের বাইরে-ভিতরেও এদিন কেন্দ্রের একাধিক নীতির সমালোচনা করেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ (Imran Masood)। বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ (FCRA) সংশোধনী বিল এবং লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation) প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।

ইমরান মাসুদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে, যেখানে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর এবং সামাজিক সংগঠনগুলির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে। তাঁর দাবি, জাতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিসরকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

কংগ্রেস সাংসদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকার দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ কোনওভাবেই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিনের প্রতিবাদে মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—একদিকে যন্তর মন্তরে ছাত্রদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ এবং রামমন্দিরের অনুদান চুরির অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবের দাবি, অন্যদিকে কেন্দ্রের নীতি ও বিভিন্ন আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের রাজনৈতিক আপত্তি।

ফলে সংসদের অধিবেশনে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। অমিত শাহ সংসদে কোনও বিবৃতি দেন কি না এবং সরকার বিরোধীদের দাবির বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। আপাতত বিরোধীদের অবস্থান স্পষ্ট—জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সংসদে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখার পথেই এগোতে চাইছে তারা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর