প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র বিদেশ সফর নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা নতুন নয়। তবে এবার সংসদে সেই সফরগুলির খরচ এবং তার ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করল কেন্দ্র সরকার। বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs)-এর দাবি, গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে ভারতে এসেছে বিপুল পরিমাণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রাজ্যসভা (Rajya Sabha)-য় এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা (Pabitra Margherita) এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রশ্নটি করেছিলেন আপ (AAP) সাংসদ সঞ্জয় সিং (Sanjay Singh) এবং সিপিআই(এম) (CPI(M)) সাংসদ ভি. শিভদাসন (V. Sivadasan)। তাঁরা ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সংখ্যা, ব্যয় এবং সেই সফরের ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে মোট ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এসেছে। কেন্দ্রের দাবি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
খরচের হিসাবও সংসদে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চিন-সহ মোট ২৩টি দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রায় ব্যয় হয়েছে ১৮০ কোটিরও বেশি টাকা। চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেই খাতে আরও প্রায় ৭৪.৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে মোট ৭৪টি বিদেশ সফরে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র দাবি করেছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সময়কালে বিদেশ সফরের গড় ব্যয় আগের কয়েক বছরের তুলনায় কমেছে। সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-২০১৮ সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সফর ব্যয়ের ধরণে পরিবর্তন এসেছে।
বিদেশ সফরের কার্যকারিতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্র জানিয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের সফরগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে এই সফরগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে সরকারের দাবি।
বিদেশ মন্ত্রকের আরও দাবি, ২০২১ সালের জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বিদেশ সফরের সময় মোট ৩১৬টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলির মাধ্যমে একাধিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে বলেও সংসদে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও, সংসদে পেশ করা এই তথ্যের মাধ্যমে কেন্দ্র ব্যাখ্যা করেছে যে বিদেশ সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



