প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নরওয়ে সফর ঘিরে ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠল সংখ্যালঘু অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্ন। তবে এবারও কূটনৈতিক ভাষায় স্পষ্ট জবাব দিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে না বুঝেই কিছু পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যার ভিত্তি কয়েকটি ‘অজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার’ রিপোর্ট।
সোমবার গভীর রাতে নরওয়েতে আয়োজিত বিদেশ মন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকে এই বিতর্কের সূত্রপাত। বৈঠকে উপস্থিত এক নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন— সংখ্যালঘুদের অধিকার, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহল কেন ভারতের উপর আস্থা রাখবে?
এই প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের সচিব সিবি জর্জ ভারতের সাংবিধানিক কাঠামোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে সমান মৌলিক অধিকার দিয়েছে এবং অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়ার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে ভারতের সমালোচনার উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অনেকেই কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনকে চূড়ান্ত সত্য ধরে নিয়ে ভারতের বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেন, যা সঠিক নয়।
ঘটনাচক্রে, একই দিনে আরেকটি ঘটনা ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। নরওয়ের এক সাংবাদিক দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান। পরে ওই সাংবাদিক সমাজমাধ্যমে লেখেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে নরওয়ে শীর্ষে থাকলেও ভারত অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং তাই প্রশ্ন করার অধিকার তাঁদের রয়েছে।
এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিদেশ সফরের সময় ভারতের সংখ্যালঘু অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল নেদারল্যান্ডস। সেবারও বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারতের বাস্তবতা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণা থেকেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে নরওয়ের মাটিতে ভারতের এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিল, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে নয়াদিল্লি আগের মতোই দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে।



