পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মোদী স্পষ্ট বলেন, সামরিক সংঘাত কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সময় তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও ফিনল্যান্ড উভয় দেশই আইনের শাসন, সংলাপ এবং কূটনৈতিক আলোচনায় বিশ্বাস করে। তাঁর কথায়, ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া—কোনও ক্ষেত্রেই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এনে দিতে পারে না।


এই প্রসঙ্গেই রাষ্ট্রসংঘ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতা বদলেছে, তাই সেই অনুযায়ী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামোও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদী সুরে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং যৌথ সমৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করছে। সম্প্রতি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদীর মতে, এই চুক্তির ফলে ভারত ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারে।


উল্লেখ্য, ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
খবর অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ধ্বংস হয় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ফ্রিগেট ‘ডেনা’। ওই হামলায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই যুদ্ধজাহাজটি সম্প্রতি ভারতের আন্তর্জাতিক নৌমহড়া ‘মিলন’-এ অংশ নিয়েছিল। ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশাখাপত্তনম বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই মহড়া।
এই ঘটনার পর ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইদ আব্বাস আরাগচি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়া ওই জাহাজের উপর আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিনা সতর্কবার্তায় হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনার পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুশোচনা করতে হবে।
এই উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মাঝেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।







