সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াল ভারত। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নয়াদিল্লি—সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত Indus Water Treaty নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। অর্থাৎ, পরিস্থিতি না বদলালে স্থগিতই থাকবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলবণ্টন চুক্তি।
বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি P. Harish কড়া ভাষায় পাকিস্তানকে আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, “চুক্তির পবিত্রতার কথা বলার আগে মানব জীবনের পবিত্রতা রক্ষা করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে উল্লেখ করে যতদিন না তারা সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করছে, ততদিন কোনওরকম আলোচনা সম্ভব নয়।
পহেলগাম হামলার পর কড়া অবস্থান
গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। তারই অংশ হিসেবে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই জলচুক্তি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভারতের দাবি, এই চুক্তি সদিচ্ছা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান বারবার যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদী হামলার মাধ্যমে সেই বিশ্বাস ভেঙেছে।
রাষ্ট্রসংঘে তীব্র বাক্যবাণ
রাষ্ট্রসংঘের অনুষ্ঠানে পাকিস্তান নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলে তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত।
পি হরিশ বলেন, “ভারত একটি দায়িত্বশীল উজান রাষ্ট্র। কিন্তু দায়িত্ব একতরফা হতে পারে না। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে।”
ইসলামাবাদের পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনভঙ্গ বলে দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, চুক্তি স্থগিত রাখা ভিয়েনা কনভেনশনের পরিপন্থী।
সব মিলিয়ে, জল কূটনীতিকে ঘিরে ভারত-পাক সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সন্ত্রাস ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—আলোচনার আগে আচরণে পরিবর্তন জরুরি।



