১৩ বছরের কম বয়সে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ? সংসদে আসছে SHIELD Bill, কী থাকছে প্রস্তাবে

১৩ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন গেমিং ব্যবহারে parental consent বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব। শিশুদের tracking, profiling ও targeted advertising নিয়েও রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

১৩ বছরের কম বয়সি শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে কড়া নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে। শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলার আগে অভিভাবকের যাচাই করা সম্মতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে ‘SHIELD Bill, 2025’-এ। শুধু অ্যাকাউন্ট খোলা নয়, শিশুদের অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করা, তাঁদের আচরণ বিশ্লেষণ করে প্রোফাইল তৈরি এবং লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দেখানোর বিরুদ্ধেও কড়া বিধিনিষেধের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই বিল এখনও আইন নয় এবং সংসদে পেশই করা সম্ভব হয়নি।

‘Safeguarding Healthy Environments for Little Digital Natives’, সংক্ষেপে SHIELD Bill, 2025 একটি Private Member’s Bill। অর্থাৎ এটি কেন্দ্রীয় সরকারের আনা কোনও সরকারি বিল নয়। বিজেপি সাংসদ বৈজয়ন্ত জয় পন্ডা (Baijayant Jay Panda) এই প্রস্তাবটি সংসদের নিম্নকক্ষে পেশ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিলটির মূল লক্ষ্য শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং সোশ্যাল মিডিয়া ও গেমিংয়ের অতিরিক্ত প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

প্রস্তাবিত আইনে ১৩ বছরের কম বয়সিদের জন্য একটি ‘Age Gate’ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। কোনও শিশু সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইলে অভিভাবকের যাচাই করা অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বয়স যাচাইয়ের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট শিশুর অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে অভিভাবকের সম্মতি রয়েছে।

শিশুদের অনলাইন আচরণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। তাদের কী দেখছে, কী পছন্দ করছে বা কী ধরনের কনটেন্টে বেশি সময় কাটাচ্ছে—এই ধরনের তথ্য ব্যবহার করে profiling বা behavioural tracking সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত বা targeted advertising চালানোর উপরও নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে।

শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে দূরে রাখার দায়িত্বও প্ল্যাটফর্মগুলির উপর চাপানোর প্রস্তাব রয়েছে। পর্নোগ্রাফি, জুয়া, simulated betting, চরমপন্থী কনটেন্ট এবং মাদক সংক্রান্ত ক্ষতিকর বিষয়বস্তু যাতে শিশুদের কাছে সহজে পৌঁছে না যায়, সে জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও গেমিং সংস্থাগুলিকে আরও সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

অভিভাবকদের জন্য আলাদা parental control ব্যবস্থার কথাও রয়েছে। বয়স যাচাইয়ের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মগুলিকে এমন একটি dashboard দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বাবা-মা সন্তানের অনলাইন কার্যকলাপ সম্পর্কে নজর রাখতে পারবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী privacy settings পরিবর্তন এবং screen time সীমিত করার সুযোগও থাকার কথা বলা হয়েছে।

SHIELD Bill নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। বিলটি গত কয়েক মাস ধরে লোকসভায় পেশের তালিকায় থাকলেও বারবার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় তা পেশ করা সম্ভব হয়নি। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এও বৈজয়ন্ত পন্ডার বিলটি লোকসভায় তোলার কথা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যে হাউস মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় সেই উদ্যোগও সফল হয়নি।

বিলটি নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ শিশুদের উপর সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন গেমিংয়ের প্রভাব নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ। বিশ্বের কয়েকটি দেশে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ হয়েছে। ভারতেও শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক, বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে।

তবে SHIELD Bill নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল—এটি এখনও কোনও আইন নয়। সংসদে বিলটি পেশ, আলোচনা, ভোটাভুটি এবং দুই কক্ষের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া পেরোনোর পরেই আইন হওয়ার প্রশ্ন উঠবে। ফলে এখনই ১৩ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন গেমিং অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন কোনও সরকারি নিয়ম চালু হয়নি।

Private Member’s Bill হিসেবে এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে খুব অল্প সংখ্যক Private Member’s Bill সংসদে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। ফলে SHIELD Bill শেষ পর্যন্ত সংসদে পেশ হলে তার কী পরিণতি হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে বিলটি সংসদে আলোচনার সুযোগ পেলে ভারতে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, parental control এবং অনলাইন বিজ্ঞাপন নিয়ে একটি বড় নীতিগত বিতর্কের দরজা খুলে দিতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর