দেশের পরিচিত মদ প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ড ওল্ড মঙ্ককে (Old Monk) ঘিরে এ বার বিতর্কের কেন্দ্রে বোতলের লেবেল ও পানীয়ের উপাদান। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) চাইছে, নির্দিষ্ট পণ্যকে ‘রাম’ (Rum) না লিখে ‘রাম-সদৃশ’ (Rum-like) হিসেবে চিহ্নিত করা হোক। এই নির্দেশের জেরে মহারাষ্ট্রে বিক্রি বন্ধ থাকায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে বম্বে হাই কোর্টে দাবি করেছে প্রস্তুতকারী সংস্থা। সংস্থার বক্তব্য, রাজ্যের আবগারি দফতরেরও প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার বম্বে হাই কোর্টে মামলাটি উঠলে ওল্ড মঙ্কের প্রস্তুতকারী সংস্থা মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার প্রাইভেট লিমিটেডের (Mohan Rocky Springwater Pvt. Ltd.) হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ধোন্ড। তাঁর দাবি, মহারাষ্ট্রের থানে জেলার উৎপাদনকেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিক্রি বন্ধ থাকায় সংস্থার ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রায় ৩০০ কর্মীও কাজের বাইরে রয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে। তবে এই আর্থিক ক্ষতির হিসাব সংস্থার দাবি; আদালত তা চূড়ান্তভাবে যাচাই করেছে, এমন নয়।
FSSAI-এর তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং আদালতে জানান, পণ্যের লেবেলে ‘Rum’-এর বদলে ‘Rum-like’ লেখার প্রস্তাবে সংস্থা সম্মত হলেই বিক্রির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপত্তি শুধু নামকরণে সীমাবদ্ধ নয়; পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান এবং বোতলে বয়স সংক্রান্ত দাবিও তাদের নজরে এসেছে।
FSSAI-এর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কিছু পণ্যে নিরপেক্ষ স্পিরিটের সঙ্গে বাইরে থেকে কৃত্রিম বা প্রকৃতির অনুরূপ রাম-ফ্লেভার যোগ করা হয়েছে। এতে পানীয়ের স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধের বৈশিষ্ট্য বদলে যেতে পারে এবং ক্রেতারা পণ্যের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে পারেন। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের পণ্যকে সাধারণ রাম হিসেবে বাজারজাত না করে ‘ফ্লেভারড’ বা ‘প্রিমিক্স রাম’ হিসেবে যথাযথভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
বিতর্কের আর একটি দিক ওল্ড মঙ্কের বোতলে ব্যবহৃত বয়স-সংক্রান্ত দাবি। ‘7 years old blended’ এবং ‘very old vatted’-এর মতো বর্ণনা নিয়েও আপত্তি তুলেছে FSSAI। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, পণ্যের মিশ্রণে ব্যবহৃত স্পিরিটের প্রকৃত বয়স ও উপাদানের সঙ্গে এই বর্ণনার সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। বয়সের উল্লেখ ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করতে পারে বলেও তাদের বক্তব্য।
অন্য দিকে, প্রস্তুতকারী সংস্থার যুক্তি, অনুমোদিত উপাদান ব্যবহার করে পানীয় তৈরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়মের ব্যাখ্যা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, একই ধরনের ফর্মুলায় তৈরি পণ্য অন্য রাজ্যে বিক্রি হচ্ছে, অথচ মহারাষ্ট্রে তাদের বিক্রি বন্ধ। এই বৈষম্যের প্রশ্নও আদালতে তুলেছে তারা।
বিতর্ক মেটাতে সংশোধিত লেবেলের খসড়া জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রস্তুতকারী সংস্থা। বয়স-সংক্রান্ত বিতর্কিত বর্ণনা সরিয়ে ‘added flavour’ উল্লেখ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত লেবেল নিয়ে FSSAI-এর সম্মতি মেলেনি। ফলে আলোচনা থেকে সমাধান না বেরোনোয় মামলাটি চূড়ান্ত শুনানির দিকে এগোচ্ছে।
এই মামলায় বম্বে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার ডিভিশন বেঞ্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ২৩ অক্টোবর। তার আগে বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্বস্তি মেলেনি সংস্থার। ফলে লেবেল নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপত্তি এবং প্রস্তুতকারকের যুক্তির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলির বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।




