রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এক মহিলা মমতাকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। ঘটনাটি জানিয়ে কালীঘাট থানার ওসিকে ইমেল করেছেন তিনি। অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর।
দোলা সেন জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীঘাটপন্থী নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং তিনি কালীঘাট মিলন সঙ্ঘের পুজোয় যাচ্ছিলেন। সেই সময় এক মহিলা মমতাকে ‘পিসি’ বলে সম্বোধন করে ছুটে আসেন বলে তাঁর অভিযোগ। ওই মহিলা মমতার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন এবং পরে রাস্তায় শুয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন বলেও দাবি করেছেন দোলা।
তৃণমূল সাংসদের আরও অভিযোগ, ওই মহিলার হাতে ছুরি ছিল। তবে ছুরি উদ্ধার হয়েছে কি না, ঘটনার সময় ঠিক কী হয়েছিল এবং পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবরণ এখনও স্পষ্ট নয়।
কী অভিযোগ দোলা সেনের?
দোলা সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই মহিলা নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাগ্নি বলেও দাবি করেন বলে অভিযোগ। তন্নিষ্ঠা সাহা নামে ওই মহিলা মত্ত অবস্থায় ছিলেন বলেও দাবি করেছেন দোলা। তবে তাঁর মাদকাসক্তি সংক্রান্ত বক্তব্যের পক্ষে কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সামনে আসেনি।
ঘটনার পর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন পুলিশকর্মীকে বিষয়টি জানান বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, ওই পুলিশকর্মীরা নিজেদের রাজ্য পুলিশের কর্মী বলে পরিচয় দেন এবং কলকাতা পুলিশের অধীন এলাকায় তাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারবেন না বলে জানান।
দোলার আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত মহিলাকে পুলিশ দূরে নিয়ে গিয়ে চা খাওয়াচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কি চান না, যে তিনি বেঁচে থাকুন?”
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশকর্মীদের ভূমিকা এবং অভিযুক্তকে আটক করার পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের প্রতিটি দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযুক্ত মহিলাকে আটক, কী পদক্ষেপ পুলিশের?
ঘটনার কথা জানিয়ে কালীঘাট থানার ওসিকে ইমেল করেছেন দোলা সেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। পরে অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
তবে আটক করার সুনির্দিষ্ট সময়, কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ছুরি উদ্ধার বা হামলার চেষ্টার অভিযোগের সমর্থনে কোনও সিসিটিভি ফুটেজ কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাধীন বক্তব্যও এই বিবরণে উল্লেখ নেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা ঘিরে অভিযোগ ওঠায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মমতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, পালটা তাপস রায়ের
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। দোলা সেন আঙুল তুলেছেন বিজেপি সরকারের দিকে। অন্যদিকে, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় পালটা কটাক্ষ করেছেন।
তাপসের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন। একই সঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাপস বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন।”
তাঁর আরও বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের শাসনকালের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা ভুলে গিয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ গুরুতর। অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর মিললেও, ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।
ছুরি সত্যিই ছিল কি না, হামলার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং অভিযুক্তের পরিচয় ও বক্তব্য কী—এই প্রশ্নগুলির উত্তর তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে। রাজনৈতিক তরজার বাইরে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।




