২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এখনও এক বছরেরও বেশি দূরে। কিন্তু ভারতীয় দলে কারা সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির বয়স এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। সেই আবহে বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, বয়স নয়, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ক্রিকেটারদের নির্বাচিত করা উচিত।
স্পোর্টস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মানহাস স্পষ্ট করেছেন, বিশ্বকাপের দলে কারা থাকবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নির্বাচক ও কোচেরা। তবে নিজের মত জানাতে গিয়ে তিনি ফিটনেস এবং মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ, কোনও ক্রিকেটার নিয়মিত খেলছেন, ফিট রয়েছেন এবং দেশকে ম্যাচ জেতাতে পারছেন কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।
রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির বয়স নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের সময় রোহিতের বয়স হবে ৪০-এর কাছাকাছি, আর কোহলিও থাকবেন ৩৮ বছরের বেশি বয়সে। সেই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি দল গঠনের ক্ষেত্রে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে দু’জনেই নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রেখেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজে কোহলি অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। রোহিতও সিরিজে ১০১ ও ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। ভারত সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জেতে।
মানহাসের বক্তব্য অনুযায়ী, বয়সের কারণে কাউকে আগেভাগে বাদ দেওয়া উচিত নয়। তবে তাঁর মন্তব্যকে রোহিত বা কোহলির বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত দল নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচক ও কোচদেরই।
একই মাপকাঠিতে কি সুযোগ পাবেন মহম্মদ শামি?
রোহিত-কোহলির জন্য ফিটনেস ও পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা সামনে আসতেই মহম্মদ শামির জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ উঠছে। বাংলার এই অভিজ্ঞ পেসার ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট নিয়ে নিজের ছন্দের প্রমাণ দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে চার উইকেটও পেয়েছেন তিনি।
শামির ক্ষেত্রে প্রশ্নটা হল, ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স এবং ফিটনেসের ভিত্তিতে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে কি না। তবে রোহিত-কোহলির সঙ্গে শামির পরিস্থিতি পুরোপুরি এক নয়। ব্যাটার ও পেসারের ভূমিকা আলাদা, তাঁদের কাজের চাপ, ম্যাচ ফিটনেস এবং দলের প্রয়োজনও ভিন্ন। তাই একই সাধারণ নীতি প্রযোজ্য হলেও নির্বাচনের সিদ্ধান্তে একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
শামির দলে না থাকা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু তাঁকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে নির্বাচকরা কী মূল্যায়ন করছেন, তা স্পষ্ট না হলে অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
ভারতীয় পেস আক্রমণে জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতা তীব্র। হর্ষিত রানা ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের মতো বোলারদের সুযোগ দেওয়ার সঙ্গে শামির প্রত্যাবর্তনের তুলনা টেনে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। গুরনুর ব্রারের মতো নতুন মুখও আলোচনায় রয়েছেন।
তবে কারও ধারাবাহিকতা বা ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করতে হলে সাম্প্রতিক ম্যাচের পরিসংখ্যান, প্রতিপক্ষ, উইকেটের পরিস্থিতি এবং দলের কৌশল দেখতে হবে। শুধু কয়েকটি ম্যাচের ফল দিয়ে কোনও ক্রিকেটারকে নিয়মিত দলে থাকার অযোগ্য বলা যায় না। একইভাবে, শামির ঘরোয়া ক্রিকেটের সাফল্য তাঁর দাবিকে জোরালো করলেও জাতীয় দলে জায়গা নিশ্চিত করে না।
বিশ্বকাপের আগে নির্বাচকদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে অভিজ্ঞতা, ফিটনেস, বর্তমান ফর্ম এবং দলের ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় করা।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি অধিনায়ক শুভমন গিলকে নিয়ে নিজের ভাবনার কথাও জানিয়েছেন মিঠুন মানহাস। তাঁর মতে, দলে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকলে অধিনায়কের সুবিধা হবে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
বোলিং বিভাগে জসপ্রীত বুমরাহ নেতৃত্ব দিতে পারেন বলেও মনে করেন বোর্ড সভাপতি। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ের দায়িত্বে অন্য কোনও ক্রিকেটার নেতৃত্ব দিলে দলের কাজ ভাগ করে নেওয়া সহজ হবে। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, অধিনায়কের উপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে না দিয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া উচিত।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলের হাতে এখনও প্রস্তুতির সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ক্রিকেটারদের ফিটনেস, ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে পারফরম্যান্সের উপর নজর রাখবেন নির্বাচকেরা। রোহিত-কোহলির সাম্প্রতিক রান তাঁদের দাবিকে জোরালো করেছে, আর শামির ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সও তাঁকে আলোচনায় রেখেছে।
তবে মিঠুন মানহাসের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, বয়সকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখার পক্ষে তিনি নন। একই সঙ্গে তিনি চূড়ান্ত নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচক ও কোচদের হাতেই রেখেছেন। ফলে রোহিত-কোহলির বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ কিংবা শামির প্রত্যাবর্তন—কোনও বিষয়েই এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
মিঠুন মানহাসের বক্তব্যে ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের কথা বলা হয়েছে। শামির ক্ষেত্রে একই নীতি প্রয়োগ করা হবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ডের কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই। তাই শামির বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টিকে সম্ভাবনা ও আলোচনার স্তরেই রাখা হয়েছে।




