জাতীয় দলে ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনের কারণ জানালেন গম্ভীরের সহকারী, শামিকে নিয়ে কী বললেন কোটাক?

তরুণ বোলারদের পাশাপাশি অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরলেন সীতাংশু কোটাক। ভুবনেশ্বরের আইপিএল পারফরম্যান্স ও নিউজিল্যান্ডের পরিবেশের প্রসঙ্গেও ব্যাখ্যা দিলেন ভারতের সহকারী কোচ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতির পর ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। অভিজ্ঞ এই পেসারের প্রত্যাবর্তনের পিছনে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম, আইপিএলে পারফরম্যান্স এবং অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের সহকারী কোচ সীতাংশু কোটাক। তাঁর মতে, তরুণ বোলারদের নিয়ে দল ভালো খেললেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রয়োজন হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে ভুবনেশ্বরের দলে ফেরা নিয়ে মুখ খোলেন কোটাক। নিউজিল্যান্ডের পরিবেশের কথা মাথায় রেখেও নির্বাচকেরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে তাঁর বক্তব্য। একই সঙ্গে মহম্মদ শামির জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত এবং দলের প্রয়োজনীয়তার উপরেই জোর দিয়েছেন তিনি।

ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কোটাক প্রথমেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দলে যশপ্রীত বুমরাহ না থাকায় বাকি বোলারদের মধ্যে অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণ করতে ভুবনেশ্বরকে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

কোটাকের কথায়, নির্বাচকেরা ভুবনেশ্বরকে উপযুক্ত মনে করেছেন বলেই দলে নিয়েছেন। তরুণ বোলারেরা নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন এবং ভালো পারফরম্যান্সও করছেন। কিন্তু দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু অভিজ্ঞতাই নয়, গত দু’বছরে আইপিএলে ভুবনেশ্বরের পারফরম্যান্সও নির্বাচকদের নজরে এসে থাকতে পারে বলে মনে করেন ভারতের সহকারী কোচ। তাঁর মতে, নিউজিল্যান্ডের পরিবেশের কথা বিবেচনা করেও এই পেসারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে।

অর্থাৎ, ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনের ব্যাখ্যায় তিনটি বিষয় উঠে এসেছে—অভিজ্ঞতা, আইপিএলে পারফরম্যান্স এবং আসন্ন পরিস্থিতির উপযোগিতা। তবে চূড়ান্ত নির্বাচনী সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নির্বাচকদের তরফে দেওয়া হয়নি বলে কোটাক জানিয়েছেন।

ভুবনেশ্বর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর মহম্মদ শামিকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পরেও শামি জাতীয় দলে জায়গা পাচ্ছেন না কেন, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চাননি কোটাক।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচক নন। ফলে শামিকে দলে নেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে শামিও ভালো খেলছেন বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

কোটাকের বক্তব্য, নির্বাচকেরা যদি মনে করেন কোনও ক্রিকেটার ভালো ছন্দে রয়েছেন এবং দলের প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই, তা হলে তাঁকে দলে নেওয়া যেতে পারে। এই মন্তব্য থেকে শামির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তাঁকে ফেরানোর কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথাও কোটাক জানাননি।

ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর এবং উৎকর্ষ কেন্দ্রের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের মধ্যে যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেছেন কোটাক। তাঁর দাবি, দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে গম্ভীর লক্ষ্মণের সঙ্গে কথা বলেন।

কোটাকের মতে, দলের প্রয়োজনে এই ধরনের যোগাযোগ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। এর মধ্যে আলাদা করে উল্লেখ করার মতো নতুন কিছু নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় দল টি-টোয়েন্টিতে টানা ১০টি ম্যাচ জিতেছে বলে জানিয়েছেন কোটাক। তবে ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্যেও বেঞ্চের ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক দল পরিচালন গোষ্ঠী।

কোটাকের মতে, কখনও কখনও রিজার্ভ ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু দল হারার ঝুঁকি এবং বেঞ্চের শক্তি যাচাইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। তাই পরিস্থিতি বুঝেই ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতীয় দলে এমন একাধিক প্রতিশ্রুতিমান ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁদের খেলার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, একাধিক দল গঠন করলেও প্রত্যেকটিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্তিশালী হতে পারে।

ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন, শামিকে নিয়ে আলোচনা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে ভারতীয় দলের নির্বাচন ও ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন সীতাংশু কোটাক। তবে আগামী ম্যাচগুলিতে কারা প্রথম একাদশে সুযোগ পাবেন, তা নির্ভর করবে দলের প্রয়োজন এবং নির্বাচকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন