দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটক ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শনিবার, ১০ অক্টোবর, চেন্নাইয়ে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ (Chhatron Ki Goonj) কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদীকে ‘মোগ্যাম্বো’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। রাহুলের হুঁশিয়ারি, দেশের বিরুদ্ধে যে অপরাধ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করছেন, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে একদিন জবাবদিহি করতে হবে। দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই এই মন্তব্য করলেন কংগ্রেস নেতা।
চেন্নাইয়ের ওই সভায় রাহুলের অভিযোগ, দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজধানীতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশ ও বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি হামলা চালিয়েছেন। এই অভিযোগের সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে রাহুলের বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে ‘মোগ্যাম্বো’ শব্দটি ব্যবহার করেন রাহুল। ১৯৮৭ সালের হিন্দি ছবি ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ (Mr India)-র খলনায়ক মোগ্যাম্বোর সঙ্গে মোদীর তুলনা টেনে তিনি রাজনৈতিক কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে। তবে এটি রাহুলের রাজনৈতিক অভিযোগ ও বক্তব্য, কোনও আদালতের রায় নয়।
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের আবহেই এই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটক করা এবং নিরাপত্তার কারণে পুলিশের বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রাহুলের বক্তব্যে তরুণদের উদ্দেশেও বার্তা ছিল। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পাশে বিরোধীরা রয়েছে এবং আক্রান্তদের বিচার মিলবে। দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রসমাজ, প্রতিবাদের অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে এনেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে কেন্দ্র ও বিরোধীদের সংঘাত এখন শুধু নির্বাচন কমিশন বা এসআইআর-এর প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবাদ করার অধিকার, পুলিশের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাহুলের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই রাজনৈতিক সংঘাতকেই আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল।



