টানা পতনের ধাক্কা সামলে মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় শেয়ার বাজার। দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর (LTCG) এবং সিকিউরিটিজ ট্রানজ়্যাকশন ট্যাক্স (STT) নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মতামত শোনার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার পরেই বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। দিনের শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সেনসেক্স ১১০৯.১০ পয়েন্ট বা ১.৫৪ শতাংশ বেড়ে ৭৩,০৩৩.৭৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি ৫০-ও ৩৫৮.৬০ পয়েন্ট বা ১.৬ শতাংশ বেড়ে থেমেছে ২২,৭২১.৯৫ পয়েন্টে।
শেয়ার বাজারের এই উত্থানে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজার মূলধন প্রায় ৪.১২ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। ফলে আগের কয়েকটি অধিবেশনের পতনে চাপে থাকা বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে এক দিনের এই উত্থানেই বাজারের অনিশ্চয়তা কেটে গিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই।
বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম আলোচিত কারণ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের LTCG ও STT সংক্রান্ত মন্তব্য। ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর, শেয়ার লেনদেনে আরোপিত কর এবং বিভিন্ন সম্পদশ্রেণির কর কাঠামো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মতামত শোনা হচ্ছে। বাজেট-সংক্রান্ত আলোচনায় এই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে LTCG কর তুলে দেওয়া বা করের হার কমানোর কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেননি অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মতামত শোনার বিষয়টি উঠে এসেছে। বাজারে কর কাঠামো নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনার প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় শেয়ার কেনার আগ্রহ বেড়েছে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা। অর্থাৎ, কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবারের উত্থানে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বা IT ক্ষেত্রের শেয়ার। এই বিভাগের সূচক ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। HCL Technologies, Tata Consultancy Services (TCS), Tech Mahindra এবং Infosys-এর মতো সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটা বাজারকে উপরের দিকে তুলতে সাহায্য করেছে। এর মধ্যে HCL Technologies-এর শেয়ারে প্রায় ৮ শতাংশের উত্থান দেখা যায়।
শুধু তথ্যপ্রযুক্তি নয়, গাড়ি, আর্থিক পরিষেবা, দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য (FMCG) এবং ধাতু ক্ষেত্রের শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। আগের অধিবেশনগুলিতে দর কমার পর তুলনামূলক কম দামে শেয়ার কেনার প্রবণতাও বাজারের পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে বলে বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেনসেক্স ও নিফটির এই উত্থান এমন এক সময়ে এল, যখন গত সপ্তাহের পতনের পর সোমবারও বাজারে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। ফলে মঙ্গলবারের বৃদ্ধি সাম্প্রতিক লোকসানের চাপ কিছুটা কমিয়েছে। তবে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, মুদ্রার ওঠানামা এবং সংস্থাগুলির ত্রৈমাসিক ফলাফল আগামী দিনেও বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এই উত্থান পরের অধিবেশনগুলিতেও বজায় থাকে কি না। LTCG ও STT নিয়ে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য বাজারে প্রত্যাশা তৈরি করলেও, কর কাঠামোয় বাস্তব পরিবর্তন হবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের সরকারি সিদ্ধান্তের উপর। তাই মঙ্গলবারের উত্থানকে স্বস্তির সংকেত হিসেবে দেখা গেলেও, সেটিকে স্থায়ী বাজার পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা বলা যায় না।




