বিহারে সরকার গঠনের গতি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-এর পক্ষে চূড়ান্ত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে খবর। এনডিএ জোটের নেতারা শনিবার একটি গোপন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন যে, আবারও সরকারে নেতৃত্ব দেবেন নীতীশ কুমার। এই ফর্মুলার ভিত্তিতে আগামী ১৯–২০ নভেম্বর তাঁর শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র বলেছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিজেপি নেতৃত্ব, এবং তাদের চাপে বিজেপি কিছু নেতা আপত্তি সত্ত্বেও নীতীশকেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখতে সম্মতি দেওয়া হয়। এনডিএ নেতারা বলছেন, ভোটের আগে অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে লড়াই হবে” — এবং ভোট ফলাফলের পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হচ্ছে।


মন্ত্রিসভার বণ্টন নিয়েও প্রাথমিক সমঝোতা গড়ে উঠেছে। এনডিএ নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রতি ছ’জন বিধায়কের জন্য এক জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী রাখা হবে। এই ফর্মুলা অনুযায়ী বিজেপি থেকে প্রায় ১৫ জন মন্ত্রী হতে পারেন, এবং জেডিইউ–র পক্ষে ১৩–১৪টি মন্ত্রণালয় যায় বলে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া, চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি(আর) থেকে ৩ জন মন্ত্রী পাচ্ছেন এবং অন্যান্য শরিকদের জন্যও একটি একটি মন্ত্রক নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইনডিজেন্ড রাজনৈতিক কূটকৌশলে, উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে এখনো চূড়ান্ত ফর্মুলা না দাঁড়িয়ে থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পক্ষে একটি সুদৃঢ় সরকারের আভাস স্পষ্ট হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, নীতীশ কুমার প্রথমে তাঁর দল জেডিইউ ছেড়ে ইস্তফা দেবেন এবং পরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘোষণা করে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হবে। এরপর পাটনার গান্ধী ময়দানে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে, যেখানে এনডিএ-শাসিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের শপথের দিন চূড়ান্ত করা হবে প্রধানমন্ত্রীর সূচি অনুযায়ী। অর্থাৎ, পরবর্তী দুই-তিন দিনের মধ্যে পুরো চক্র সম্পন্ন করার জন্য এনডিএ জোট প্রস্তুত।


এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্যও জাগিয়েছে। একদিকে, নীতীশ কুমার বিএনপি এবং জেডিইউর মধ্যে সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে; অন্য দিকে, বিজেপির নেতারা আভাস দিচ্ছেন যে তারা যথেষ্ট মন্ত্রণালয় দখল করেই প্রভাব বজায় রাখতে চলেছে। নীতীশ কুমার যাই হোক, তাঁর নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামো বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা বলছেন, এনডিএ-র সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ভোটের ফলাফল অনুকূলে আসার পর গৃহীত — যা নির্বাচনের প্রতিশ্রুকে একভাবে আবার নতুনভাবে চুক্তি হিসেবে প্রতিফলিত করে। অন্যদিকে সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রমাণ করেছেন তিনি স্থিতিশীলতা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজ্য পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত, বিহারের আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শপথ অনুষ্ঠানের দিন ঘোষণা এবং মন্ত্রিসভার গঠন সবার নজরদারির বিষয়। যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ফের শাসনভার গ্রহণ করতে চলেছেন, তাই তাঁর নতুন মন্ত্রিসভা এবং নীতিনির্ধারণ কী রূপ নেবে, তা পুরো রাজ্য এবং জোটের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।







