নজরবন্দি ব্যুরো: বছর শেষে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা ভাইরাস। আবার কি ফিরবে সেই ভয়াবহ স্মৃতি? ডিসেম্বর এলেই কেন লাফিয়ে-লাফিয়ে বাড়তে থাকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ? ডেল্টা হোক বা ওমিক্রন, শীতেই এসেছিল প্রথম ঢেউ। এবার জেএন.১-এর ক্ষেত্রেও কি একই বিষয় ঘটবে ? করোনা ভাইরাসের নতুন উপরূপ (New Variant of COVID) জেএন.১-এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে দানা বেঁধেছে আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে সাবধান হওয়া জরুরি। শীতের আমেজ (WINTER LOVER) আর বড়দিন,নতুন বছর আসতে চলেছে, চারদিকে উৎসবের মরশুম। এসময় একটু অসতর্ক হলেই আপনি আক্রান্ত হতে পারেন কোভিডে।
আর পড়ুন: New Corona Strain: ফের হাজির করোনার নয়া উপসর্গ, ‘পিরোলা’ স্ট্রেনে আক্রান্ত হলে বুঝবেন কী করে?



বর্তমানে, বিশ্বের ৩৮টিরও বেশি দেশে জেএন.১ পাওয়া গিয়েছে। তার সঙ্গে হু-হু করে বাড়ছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। ভারতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এখনও পর্যন্ত একজনের দেহেই জেএন.১-এর হদিশ মিলেছে। অর্থাৎ, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। নয়া উপরূপ জেএন.১ কে ‘ভ্যারিয়্যান্ট অফ ইন্টারেস্ট’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছে তারা। হু-র দাবি, এই উপরূপে সংক্রমণের ফলে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। জেএন.১ অতিরিক্ত স্পাইক মিউটেশন বহন করে ঠিকই। কিন্তু আপনার রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা শক্তিশালী হলে, এই প্রজাতির সঙ্গে লড়াই করতে খুব একটা অসুবিধা হবে না। অর্থাৎ, জেএন.১ আপনার দেহে প্রবেশ করলেও আপনাকে গুরুতর অসুস্থ করে তুলবে না।

কিন্তু তাতেও কোভিডের ভয়াবহতা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিশেষত, যাঁরা শারীরিকভাবে দুর্বল, বয়স বেশি, তাঁদের নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে। ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলতে হবে। এখনকার পরিস্থিতি দু’বছর আগের পরিস্থিতির থেকে আলাদা। বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষের টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে কোভিড পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ বেড ও অক্সিজেন বেড়েছে। তবে, গত এক-দেড় বছরে সেভাবে ভয় দেখায়নি কোভিড। কিন্তু বর্তমানে যে হারে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে মাস্ক পরা, দূরত্ববিধি বজায় রাখা এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। জ্বর-সর্দি, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পেটের সমস্যা দেখা দিলে RT-PCR পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভাল। তবে, চার-পাঁচের দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।



New Variant of COVID: নজরে নতুন ভ্যারিয়ান্ট ! কেন ‘WINTER LOVER’ করোনা ?
লুক্সেমবার্গ এ প্রথম জেএন.১-এর খোঁজ মেলে। এর আগে করোনা ভাইরাসের আরও একটি উপরূপের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। যার নাম বিএ.২.৮৬। আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, জেএন.১ এবং বিএ.২.৮৬-এর মধ্যে ফারাক খুবই সামান্য। চিনে অবশ্য জেএন.১ প্রথম নয়। করোনার এই উপরূপটি প্রথম পাওয়া গিয়েছিল আমেরিকায়। গত সেপ্টেম্বরে তার খোঁজ মেলে। ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকায় যে ক’জন কোভিড রোগী এই মুহূর্তে আছেন, তাঁদের ১৫-২৯ শতাংশের দেহে রয়েছে জেএন.১ উপরূপ।







