উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় নকল করলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে পরীক্ষার্থীদের। লোকসভায় নতুন বিল পেশ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। সেখানে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করে দোষী সাব্যস্ত হলে তিন থেকে দশ বছর পর্যন্ত জেলের সাজা হতে পারে। অন্যথা, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানাও ভরতে হবে অভিযুক্তকে।
আরও পড়ুন: মনরেগা দুর্নীতির তদন্তে নেমে ‘টার্গেট’ মিস ইডির, কেন ক্ষমা চাইলেন গোয়েন্দারা?


সোমবার লোকসভা পাবলিক এগজামিনেশন্স (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) বিল ২০২৪ পেশ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। মূলত, ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC), স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC), রেলওয়ে রিক্রুটংমেন্ট বোর্ড (RRBs), ইনস্টিটিউট অফ ব্যাঙ্কিং পার্সোনেল সিলেকশন (IBPS) এবং ন্য়াশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) যে প্রবেশিকা পরীক্ষা নেয় সেখানেই নকল রুখতে এই বিল পেশ করা হয়েছে। এছাড়া ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষাতেও এই শাস্তি কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ, কেন্দ্র সরকারের সমস্ত পরীক্ষার কথাই এখানে উল্লেখ রয়েছে।

পরীক্ষায় নকল করা বা চিটিং করার ঘটনা কোনও নতুন ব্যাপার নয়। প্রযুক্তির যত ক্রমবিবর্তন হয়েছে ততই পরীক্ষার্থীরাও নিত্য নতুন পন্থা আবিষ্কার করছে নকল করার। যা কোনও ভাবেই বন্ধ করা যায়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, একমাত্র শাস্তির ভয় থাকলেই এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে পরীক্ষার্থীরা।



জিতেন্দ্র সিংহ জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রের বিবিন্ন বিভাগ যে পরীক্ষা নেয়, তাতে অনিয়ম রোখার জন্য এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই দেশে। তাই নয়া এই বিল আনা হয়েছে। এর আওতায়, অর্থনৈতিক বা অন্য ভাবে লাভবান হয়েছেন বলে যদি কোনও ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে কড়া শাস্তির বিধান রয়েছে।”
পরীক্ষায় চিটিং করলে ১০ বছর জেল, ১ কোটি টাকা ফাইন! কঠোর বিধান কেন্দ্রের

উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা উত্তরপত্রের হাতবদল, পরীক্ষা চলাকালীন এক বা একাধিক প্রশ্নের উত্তর বাতলে দেওয়া, সরাসরি বা ঘুরপথে পরীক্ষার্থীকে নকলে সাহায্য করা এই ধরনের কাজে অংশ নিলে এই বিলে যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে তার সম্মুখীন হতে হবে অভিযুক্তকে। গুজরাত এবং অসমে এই আইন আগে থেকেই রয়েছে। এবার সংসদের দুই কক্ষে পাস হয়ে গেলে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে গোটা দেশে।







