হরমুজ় প্রণালীর কাছে ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জলপথে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজটি ডুবে গেলেও স্বস্তির খবর—১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ভারত জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—অসামরিক জাহাজ এবং নিরপরাধ নাবিকদের নিশানা করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নৌপথের স্বাধীনতায় সরাসরি আঘাত হানছে।
জানা গিয়েছে, সোমালিয়া থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ৫৭ মিটার দীর্ঘ ওই যান্ত্রিক পালতোলা জাহাজটি। বুধবার হরমুজ় প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছনোর পরই সেটির উপর হামলা চালানো হয়। দ্রুত জাহাজটি ডুবে যায়। পরে ওমানের ডিব্বা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় উদ্ধার হওয়া ভারতীয় নাবিকদের। বর্তমানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার মাঝেই জানা গিয়েছে, ভারতগামী দু’টি এলপিজি-বাহী জাহাজ নির্বিঘ্নে হরমুজ় প্রণালী পার করেছে। ‘সাইমি’ নামের একটি ট্যাঙ্কার ১৯,৯৬৫ টন এলপিজি নিয়ে গুজরাতের বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে, যেখানে ১৬ মে পৌঁছনোর কথা। অন্যদিকে, ‘এনভি সানশাইন’ ৪৬,৪২৭ টন এলপিজি নিয়ে নিউ মেঙ্গালুরু বন্দরের দিকে এগোচ্ছে, যার নির্ধারিত পৌঁছনোর তারিখ ১৮ মে। দুটি জাহাজই ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের অন্তর্গত।
গত দুই মাস ধরে আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলা উত্তেজনার জেরে হরমুজ় প্রণালী হয়ে জাহাজ চলাচল একাধিকবার ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উপরও প্রভাব পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জাহাজ নির্বিঘ্নে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করায় সাময়িক স্বস্তি মিলেছে।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারত সফরে রয়েছেন। ফলে এই হামলার কূটনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।



