মনরেগা অর্থাৎ ১০০ দিনের কাজের দুর্নীতির তদন্তে নামল ইডি (Enforcement Directorate)। এই প্রথমবার। এর আগে শিক্ষক নিয়োগ, গরু পাচারা বা পুরসভা নিয়োগ ইত্যাদির তদন্তভার ছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে। এবার ১০০ দিনের কাজও (100 Days Work) সংযুক্ত হল। মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হানা দিচ্ছেন গোয়েন্দারা। যার মধ্যে রয়েছে ঝাড়গ্রাম, হুগলির চুঁচুড়া, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ও সল্টলেক। এরই মধ্যে একটা ভুল করে ফেললেন ইডি (Enforcement Directorate) আধিকারিকেরা! কী সেই ভুল?
আরও পড়ুন: ইতিহাসের পাতায় গুরুত্বপূর্ণ ৬ ফেব্রুয়ারি, একনজরে আজকের দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী


দুর্নীতির সূত্র ধরে হুগলির চুঁচুড়ার ময়নাডাঙা এলাকায় সন্দীপ সাধুখাঁ নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিতে যাওয়ার কথা ছিল ইডির (Enforcement Directorate)। ঠিকানায় গিয়ে সেই ব্যক্তিকে খুঁজেও পান তাঁরা। সক্কাল সক্কাল বাড়িতে ঢুকে তল্লাশির দাবি করেন গোয়েন্দারা। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সন্দীপের পরিবার। এরপর মেমো নম্বর দেখে সন্দীপ সাধুখাঁর ছেলে শুভদীপ সাধুখাঁ আবিষ্কার করেন, তাঁর বাবার নাম ঠিক থাকলেও দাদু ও থানার নাম ভুল!

অর্থাৎ, ইডি (Enforcement Directorate) যে সন্দীপ সাধুখাঁকে খুঁজছিল, এই সন্দীপ সেই সন্দীপ নয়! সঙ্গে সঙ্গেই ভুল বুঝতে পারেন গোয়েন্দারা। এক ঘন্টার মধ্যেই গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা। চেয়ে নেন ক্ষমাও। এই সন্দীপ সাধুখাঁর লজেন্সের ব্যবসা রয়েছে। ইডি বাড়িতে আসায় প্রতিবেশিরা কুনজরে দেখছে বলে অভিযোগ করেছেন ছেলে শুভদীপ। পাশাপাশি, ইডির (Enforcement Directorate) বিরুদ্ধে বাজে ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।



অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামে এক ডব্লুবিসিএস অফিসারের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় ইডি (Enforcement Directorate)। আবার, ধনেখালির প্রাক্তন বিডিও-র সল্টলেকের ফ্ল্যাটেও হানা দেন গোয়েন্দারা। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বহিষ্কৃত পঞ্চায়েত কর্মী রথীন দে-র বাড়িতেও সিআরপিএফ জওয়ান নিয়ে হাজির হয়েছেন এক দল আধিকারিক। ৪ কোটি টাকা আত্মসাত-এর অভিযোগ রয়েছে রথীনের বিরুদ্ধে।
মনরেগা দুর্নীতির তদন্তে নেমে ‘টার্গেট’ মিস ইডির, কেন ক্ষমা চাইলেন গোয়েন্দারা?

প্রসঙ্গত, সাল ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এ হুগলির ধনেখালি ও মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মোট ৫টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। ১০০ দিনের কাজে (100 Days Work) দুর্নীতি হয়েছে বলে উল্লেখ ছিল এফআইআরে। সেই সূত্রেই শুরু এই ইডির (Enforcement Directorate) তল্লাশি অভিযান। অভিযোগ, ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবার কাজ করেও অনেকে টাকা পাননি। এখন, ১০০ দিনের কাজের (100 Days Work) দুর্নীতির কিনারা করতে পারেন কিনা গোয়েন্দারা আর কোনও তাবড় নেতার নাম উঠে আসে কিনা সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।







