নজরবন্দি ব্যুরোঃ নন্দীগ্রামের ভোটে গরমিল? রইল বেলাগাম ভুলে ভরা ১৮ টি বুথের পূর্ণাঙ্গ তথ্য! ২১ এর নির্বাচনে ২৯৪ কেন্দ্রের মধ্যে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিলো নন্দীগ্রাম। প্রার্থী নির্বাচনে টক্কর হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী খোদ মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে বিজেপির হয়ে তাঁরই পুরানো সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী। দুই অভিজ্ঞর সঙ্গে জোটের হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন তরুন মুখ মীনাক্ষী মুখার্জী।একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাংলার মসনদে আবারও তৃণমূল ফিরলেও, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও জয় পরাজয় নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি আজও। ভোট গননার দিন সন্ধ্যেবেলা জানা যায় ১২০০ ভোটে জয়ী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ চিকিৎসক দিবসে ডাক্তারদের কুর্নিশ মোদীর, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দ্বিগুন করার আশ্বাস


কিন্তু তারপরেই খবর আসে গণনা কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি, সার্ভার ডাউন। প্রায় ২ ঘণ্টা পর শুভেন্দু অধিকারীকে জয়ী বলে ঘোষণা করা হয়। জয় পরাজয়ের ধোঁয়াশা কাটাতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন নন্দীগ্রামের রায় বিচারাধীন। তবে বিচারালয়েও ঢুকে পড়েছে বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী সঞ্জয় বসু আপত্তি জানিয়েছেন বিচারক কৌশিক চন্দকে নিয়ে। কারন কৌশিক বাবু আগে বিজেপি লিগ্যাল সেলের সাথে যুক্ত ছিলেন। তৃণমূল সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে।
এই যখন পরিস্থিতি তখন নজিরবিহীন তথ্য প্রকাশিত হল নন্দীগ্রাম বিধানসভার একাধিক বুথের। নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার এস এন রায় স্কুলের বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ৬৭৬। কিন্তু ‘অ্যাকাউন্ট অব ভোটস রেকর্ডেড’ স্পষ্ট লেখা রয়েছে ভোট পড়েছে ৭৯৯। সেই নথিতেই (ফর্ম ১৭ সি) সাক্ষর করেছেন প্রিসাইডিং অফিসার! অর্থাৎ একটি বুথেই ১৩৩ টি ভোট বেশি পড়েছে। একই ভাবে ১১৮ নং বুথের তথ্য বলছে। মোট ভোটার ৭২১, ভোট পড়েছে ৭২১। এমনকি ইভিএম কাউন্টও বলছে ৭২১ টি ভোট পড়েছে। শুধু সই করতে ভুলে গিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার! বুথ নং ১৮২, এই বুথে কোন এজেন্ট ছিলেন না বলছে তথ্য! বুথ নং ২১৯। মোট ভোটার ৭০৫, ভোট দিয়েছেন ফর্ম ১৭এ অনুযায়ী ৬০১। অথচ ইভিএমে ভোট পড়েছে ৫৯৯টি!
আরও পড়ুনঃ প্রতারক দেবাঞ্জন দেবের PSO-র সাথে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, কি সম্পর্ক?


বুথ নাম্বার ৪৯এ। মোট ভোটার ৫৭২, ভোট পড়েছে ১৭এ ফর্ম অনুযায়ী ৫০২। এদিকে ইভিএম তথ্য বলছে ভোট পড়েছে ৫০৩ টি। বুথ নাম্বার ৭৫। মোট ভোটার ৮৮৬। ১৭এ ফর্ম অনুযায়ী ভোট পড়েছে ৭৩৬। ইভিএম বলছে ভোট পড়েছে ৭৩৫ টি। অর্থাৎ? গণ্ডগোল। এই রকম কমপক্ষে ৪০ টি বুথের তথ্য জানাগিয়েছে যেখানে গোলমাল রয়েছে। ১টি বুথের তথ্যও ভুল লেখা যেখানে অপরাধের সামিল সেখানে প্রায় ৪০ টি বুথের তথ্যে গোলযোগ কিভাবে?
নন্দীগ্রামের ভোটে গরমিল? রইল বেলাগাম ভুলে ভরা ১৮ টি বুথের পূর্ণাঙ্গ তথ্য! (ভেরিফাই করেনি নজরবন্দি)








