নজরবন্দি ব্যুরোঃ নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষকে অনিয়মের অভিযোগে কলকাতা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে একটানা আন্দোলন জারি রেখেছেন হবু শিক্ষকরা। তার মধ্যে রয়েছেন ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাস। সোমার প্রতি মানবিক হয়ে অন্য সরকারী চাকরী দেওয়ার জন্য বলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট৷ সেবার ভরা আদালতে সোমা বলেছিলেন শিক্ষকতাই করবেন। সেই সোমাকে শিক্ষক পদে চাকরী দেওয়ার নির্দেশ দিল নবান্ন।
আরও পড়ুনঃ ওমিক্রনের নতুন রূপের খোঁজ দেশে, তবুও নিম্নমুখী কোভিড গ্রাফ


সোমবার স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে এই নির্দেশ স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব৷ সাত দিনের মধ্যে সোমার নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বীরভূমের নলহাটির বাসিন্দা সোমা দাস৷ ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আন্দোলনরত হবু শিক্ষকদের কাছে অনুপ্রেরণা৷ ২০১৯ সালে দফায় দফায় হবু শিক্ষকদের সঙ্গে আন্দোলন করে চলেছেন তিনি। গত মাসেই সোমাকে অন্য সরকারী চাকরীর প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু সোমা বলেছিলেন শিক্ষকতা করতে চান। তাঁর বক্তব্য ছিল, আমার লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। যদি চাকরী হয় সবার হবে। আলাদা করে আমি চাকরীটা নিয়ে সরে যাবো না।



স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জর্জরিত শাসক দল৷ এরই মধ্যে অনিয়মের অভিযোগ সরিয়ে নতুন করে নিয়োগ করতে চায় শিক্ষা দফতর৷ রাজ্যে বঞ্চিত চাকরী প্রার্থীদের জন্য নতুন করে ৬,৮৬১টি পদ তৈরি করা হচ্ছে। তার মধ্যে নবম-দশমে ১,৯৩২টি এবং একাদশ-দ্বাদশে ২৪৭টি পদ তৈরি করা হবে। এ ছাড়াও গ্রুপ সি-র জন্য ১,১০২টি এবং গ্রুপ ডি-র ১,৯৮০টি পদ রয়েছে। কর্মশিক্ষায় ৭৫০ এবং শারীরশিক্ষায় ৮৫০টি পদ রয়েছে ওই তালিকায়। আদালতের নিয়ম মেনে নিয়োগ হবে বলে জানান কমিশনের আইনজীবী সম্রাট সেন। আদালতকে মান্যতা দিয়েই নিয়োগ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ক্যান্সার আক্রান্ত সোমাকে চাকরী দিতে চায় নবান্ন
গোটা বিষয়টাকে ‘আই ওয়াশ’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এখন কোন দিকের জল কোথায় গড়ায় সেটাই দেখার।







