নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুজোর অনুদানের টাকা কোন খাতে খরচ? দুর্গাপুজো শেষ হতে না হতেই রাজ্য সরকারের অনুদানের টাকা কীভাবে খরচ করা হয়েছে পুজো কমিটিগুলির কাছ থেকে তার স্পষ্ট হিসেব চাইল নবান্ন। কোথায় কোন খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে সেই সম্পর্কিত বিস্তারিত বিল, ভাউচার এবং শংসাপত্র জমা দিতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে, এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে জারি করা হয়েছে একটি নির্দেশিকা।
আরও পড়ুনঃ প্রাতঃভ্রমণে এসেই বিজয়া সম্মিলনী সারলেন দিলীপ, কটাক্ষ করলেন মমতাকে


এই বছর পুজোয় (Durga Puja 2022) রাজ্যের কমিটিগুলিকে দেওয়া অনুদানের অর্থ কোন খাতে খরচ করতে হবে, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত নির্দেশিত সেই পথেই সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ খরচ হয়েছে কিনা, তা জানতে এবার তৎপর হল নবান্নও (Nabanna) ৷ এবছর প্রত্যেকটি পুজো কমিটিকে বরাদ্দ অনুদানের অংক আরও দশ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের দেওয়া সেই অর্থ কোন কোন খাতে খরচ করা হয়েছে, পুজো মিটতেই তার হিসাব চাইল রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন।

গত ২২ অগাস্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সমস্ত পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পর তিনি জানান, এই বছর রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজারের বদলে ৬০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। এরপর পুজো শেষ হতে না হতেই পুজো কমিটিগুলির কাছে বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে ঠিক কী কী জনসচেতনতামূলক কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে ৷
সরকারি উদ্যোগ ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ নিয়ে যে প্রচার চালানোর পদক্ষেপ করা হয়েছিল পুজো কমিটিগুলি সেই বিষয়ে সাহায্য করেছে কিনা বা ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঠিক কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, মণ্ডপে স্যানিটাইজারের ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা বা সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে কিনা বা এই ক্ষেত্রগুলিতে কত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, এবার সেই যাবতীয় বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে চাইছে নবান্ন।


পুজো কমিটিগুলির প্রতি নবান্নের নির্দেশ, খরচের হিসাব দেখাতে উপযুক্ত বিল, ভাউচার ও শংসাপত্র জমা দিতে হবে আগামী তিনদিনের মধ্যে। উল্লেখ্য, কলকাতা পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার ৩ হাজার পুজো এবং রাজ্য পুলিশের আওতাভুক্ত মোট ৩৫টি জেলা ও কমিশনারেট এলাকার ৩৭ হাজার ২৮টি পুজোর জন্য এবছর মোট ২৪০ কোটি ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার।
পুজোর অনুদানের টাকা কোন খাতে খরচ? হিসেব চাইল নবান্ন।

বিভিন্ন সচেতনতা মূলক প্রচার এবং সামাজিক কল্যাণ মূলক কাজে যদি এই অর্থ বরাদ্দ হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সেই বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলিকে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ বলছে, যেহেতু মাথার উপর আদালতের নির্দেশ রয়েছে, তাই রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া অর্থের অবিলম্বে হিসাব নেওয়া জরুরি ৷ সূত্রের খবর, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই হিসাব নবান্নের তরফ থেকে আদালতে জমা করা হবে।







