শেষ বল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা, স্কোর সমান— তবু ট্রফি উঠল মোহনবাগানের হাতেই। সিএবি জেসি মুখার্জি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ভবানীপুর ক্লাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কম উইকেট হারানোর নিয়মেই শেষ পর্যন্ত বাজিমাত মোহনবাগানের।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় মোহনবাগান। শুরুটা খুব দ্রুত না হলেও মাঝের ওভার থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় সবুজ-মেরুন শিবির। সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শাকির হাবিব গান্ধী।


মাত্র ৫৩ বলে ৯৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। চার-ছক্কার ঝড়ে ভবানীপুর বোলারদের চাপে ফেলে দেন শাকির। অন্যদিকে বিবেক সিংও ৩৮ বলে ৪৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
এই দুই ব্যাটারের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান তোলে মোহনবাগান। ভবানীপুরের হয়ে তৌফিক উদ্দিন ও গীত পুরি দু’টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে ভবানীপুর ক্লাব। অখিলের ২৭ বলে ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস ম্যাচে ফিরিয়ে আনে দলকে। যুবরাজ দীপক কেশওয়ানিও ২৭ বলে ৩২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।


ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে। শেষ বলের আগে ভবানীপুরের দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু বলটি ওয়াইড হওয়ায় সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ১ রান। উত্তেজনায় টগবগ করতে থাকা ম্যাচে সেই শেষ বলেই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ভবানীপুরের ব্যাটার।
ফলে দুই দলের স্কোরই দাঁড়ায় ১৮৯। তবে মোহনবাগান ৬ উইকেট হারিয়ে সেই রান তুললেও ভবানীপুরের খরচ হয়েছিল ৮ উইকেট। নিয়ম অনুযায়ী কম উইকেট হারানোর ভিত্তিতেই জয়ী ঘোষণা করা হয় মোহনবাগানকে।
ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন শাকির হাবিব গান্ধী। তাঁর বিস্ফোরক ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বোলিংয়ে রবি কুমার ৪৫ রানে ৩ উইকেট এবং প্রদীপ্ত প্রামাণিক ২৭ রানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ম্যাচ শেষে সিএবি সচিব বাবলু কোলে মোহনবাগান অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরনের হাতে ট্রফি তুলে দেন। ভবানীপুর অধিনায়ক ঋত্বিক রায়চৌধুরীর হাতে তুলে দেওয়া হয় রানার্স-আপ ট্রফি।
রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের নাটকীয় সমাপ্তিতে শেষ হাসি হাসল মোহনবাগান। কলকাতার ক্রিকেটমঞ্চে এই ম্যাচ দীর্ঘদিন মনে রাখবেন সমর্থকেরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



