রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে আর জি কর কাণ্ড। এবার সেই মামলায় নতুন করে মুখ খুললেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। তাঁর দাবি, এতদিন ব্যক্তিগত কারণেই নীরব ছিলেন। তবে এখন প্রয়োজন হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারকে তদন্তে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে প্রস্তুত।
বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শান্তনু সেন বলেন, তাঁর মেয়ে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত তিনি অনেক বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। তাঁর কথায়, মেয়ের কেরিয়ারের কথা ভেবেই এতদিন নিজেকে সংযত রেখেছিলেন। এখন আর সেই বাধা নেই।
আর জি কর মামলার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একাংশে দীর্ঘদিন ধরেই অসংগতি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি তৎকালীন প্রশাসনিক কাঠামো ও কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন।
শান্তনু সেন অভিযোগ করেন, অতীতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে দুর্নীতির পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। তাঁর বক্তব্য, তিনি সেই বিষয়ে বহুবার সতর্ক করেছিলেন এবং নিজেকে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবেও তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অনিয়ম নিয়ে সরব হওয়ার পর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে তাঁকে মূল্যও দিতে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আর জি করের ঘটনাকে উল্লেখ করে শান্তনু সেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ছিল এবং তিনি শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব ছিলেন। এখন তদন্ত যদি নতুন করে এগোয় এবং সরকার তথ্য বা সহযোগিতা চায়, তাহলে তিনি পাশে থাকতে প্রস্তুত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আর জি কর ইস্যুর পর আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন শান্তনু সেন। সেই সময় দলীয় অবস্থানের বাইরে মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও সরানো হয়েছিল। পরে অবশ্য সেই দূরত্ব কমে আসে।
রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্যখাতে একাধিক উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার জন্য নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর— শান্তনু সেনের এই মন্তব্য ভবিষ্যতে আর জি কর তদন্তের গতিপথে কোনও প্রভাব ফেলে কি না।



