৬৪ দলের FIFA বিশ্বকাপের ভাবনা! ভারতের সামনে কি খুলছে নতুন দরজা? জানুন কতটা বাস্তব সম্ভাবনা

৪৮ দলের সফল বিশ্বকাপের পর এবার ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে FIFA। সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এতে ভারতের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বাড়তে পারে ঠিকই, তবে পথ এখনও সহজ নয়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

৬৪ দলের FIFA World Cup নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। ২০২৬ সালে প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার পর এবার আরও বড় টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে FIFA। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—দলের সংখ্যা বাড়লে কি ভারতের বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাস্তবের আরও কাছাকাছি পৌঁছবে?

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সুইজ়ারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম Blue Sport-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, চলতি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিতে আলোচনা হবে। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ শুধুমাত্র ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার বড় দলগুলির জন্য নয়; বিশ্বের আরও বেশি দেশকে এই মঞ্চে সুযোগ দেওয়াই FIFA-র লক্ষ্য।

ইনফান্তিনোর বক্তব্য, ছোট দেশগুলিকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে তাদের ফুটবলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। কেপ ভার্দে, কুরাসাওয়ের মতো দেশের অগ্রগতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে সুযোগ পাওয়া নতুন দেশগুলির জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

৬৪ দলের বিশ্বকাপের ধারণা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা CONMEBOL ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে শতবর্ষের আসর হিসেবে ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাব নিয়েই এখন FIFA গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে জোর জল্পনা চলছে।

দলের সংখ্যা ৬৪ হলে ভারতের সম্ভাবনা যে বাড়বে, তা নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য রয়েছে। বর্তমানে ৪৮ দলের বিশ্বকাপে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC)-এর সরাসরি কোটা ৪.৫ থেকে বেড়ে ৮.৫ হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আরও ১৬টি দল যুক্ত হয়, তাহলে AFC-এর সরাসরি কোটা প্রায় ১১ বা ১২-এ পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ভারতের জন্য যোগ্যতা অর্জনের পথ আগের তুলনায় কিছুটা সহজ হতে পারে।

তবে শুধু কোটার সংখ্যা বাড়লেই ভারতের বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হবে না। এশিয়ার শক্তিশালী দেশ যেমন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, অস্ট্রেলিয়া ও সৌদি আরব বরাবরের মতোই শীর্ষস্থান দখলের দাবিদার থাকবে। পাশাপাশি কাতার, ইরাক, উজ়বেকিস্তান, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দলগুলিও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী।

বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে হলে ভারতকে ধারাবাহিকভাবে ওমান, বাহরিন, সিরিয়া, চিন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দলগুলির বিরুদ্ধে নিয়মিত ভালো ফল করতে হবে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের দরজা কিছুটা খুললেও, সেই দরজা পেরোতে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নির্ধারক হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর