চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে হাই কোর্টে স্বস্তি মানস ভুঁইঞার, আপাতত গ্রেপ্তারিতে স্থগিতাদেশ

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা। আদালত আপাতত গ্রেপ্তারিতে স্থগিতাদেশ দিলেও তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মানস ভুঁইঞার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাস জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত মানস ভুঁইঞা-সহ মামলার অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া সবংয়ের বাইরে যাওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে তদন্তের স্বার্থে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তদন্তকারী সংস্থার ডাকে হাজিরা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহে সহযোগিতা করা। একইসঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকা ছেড়ে না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মামলার সূত্রপাত সবং থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী বিকাশ কুমার টুং দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞার মধ্যস্থতায় কয়েকজনের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই মহিলা একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে নির্দিষ্ট পদে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, কয়েক মাস কাজ করার পর তাঁকে হঠাৎ জানানো হয় যে তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়েছে। চাকরি বাতিলের বার্তা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে সবং থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মানস ভুঁইঞাকে নোটিস পাঠানো হয় এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। পরে তিনি আগাম জামিনের জন্য জেলা আদালতের দ্বারস্থ হলেও মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর তিনি কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেন।

সোমবারের শুনানিতে হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিলেও মামলার তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে সহযোগিতা করা অভিযুক্তদের জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মামলার অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগের বিচার সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরা যাবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন