বারুইপুর হিংসা মামলায় তদন্ত আরও জোরদার করল পুলিশ। নাবালিকার মৃত্যুর পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়া অশান্তি ও হিংসায় উসকানির অভিযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ, এসটিএফ এবং স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের যৌথ অভিযানে এই সাফল্য মিলেছে। সব মিলিয়ে গত তিন দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫।
পুলিশ সূত্রের খবর, এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, হিংসায় জড়িত বা উসকানির অভিযোগে আরও কয়েকজনের খোঁজ চলছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে গ্রেপ্তারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। বারুইপুরের এক নাবালিকা শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল। পরদিন সকালে একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।
নাবালিকার মৃত্যুর প্রতিবাদে সূর্যপুর এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় সন্দেহের বশে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তি নির্দোষ ছিলেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। পাশাপাশি এই হিংসার ঘটনায় পরিকল্পিত উসকানির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
এরপর থেকেই হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রথম দিন ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আরও ১২ জন ধরা পড়েন। রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার হন আরও পাঁচজন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে গণপিটুনির ঘটনাও আলাদাভাবে তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, নাবালিকা হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরেই উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তার জেরেই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার ফের বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। প্রশাসনের দাবি, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুতগতিতে ওই পুলিশ ফাঁড়ির নির্মাণকাজ শেষ করা হচ্ছে। তদন্ত যেমন এগোচ্ছে, তেমনই এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।






