তৃণমূলের তহবিল সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তদন্তে মঙ্গলবার সকালে কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, রাধাবাজার, সল্টলেক, আলিপুর, নিউ টাউন এবং আরও একটি জায়গা মিলিয়ে মোট পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চলছে। অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন।
ইডি সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট তহবিলের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চলছিল। তদন্ত চলাকালীন ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে এবং ডেবিট কার্যক্রমও ফ্রিজ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে। অ্যাকাউন্টে অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই অ্যাকাউন্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Bandyopadhyay) এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে ওই তহবিলে বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই অর্থের মধ্যে দুর্নীতি বা কাটমানির টাকা রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক লক্ষ্য, কোনও বেআইনি বা অঘোষিত অর্থ এই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল কি না এবং সেই অর্থ পরে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা। এই বিষয়ে নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং আর্থিক রেকর্ড সংগ্রহ করছে ইডি বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার সল্টলেকের সিজি ব্লকের একটি নির্মীয়মাণ ভবন, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, লালবাজার সংলগ্ন এলাকা, নিউ টাউন এবং হাওড়ার একটি স্থানেও তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ রয়েছে। সঞ্চয়ী হিসাবের পাশাপাশি ফিক্সড ডিপোজিট এবং বন্ডে বিনিয়োগও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এই অর্থের পরিমাণ এবং উৎস সম্পর্কে ইডির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নথিভিত্তিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
এই মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইডির তল্লাশি থেকে উদ্ধার হওয়া নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য এবং আর্থিক রেকর্ড বিশ্লেষণের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।






