বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, গণপিটুনিতে নিহতের বাড়িও যাবেন শুভেন্দু

তারাতলায় ক্ষতিপূরণ প্রদান কর্মসূচি শেষ করে বারুইপুরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসপি অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বারুইপুর (Baruipur)-এর নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার হল। মঙ্গলবার নবান্নে তারাতলা দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদান কর্মসূচি শেষ করে সরাসরি বারুইপুরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুলিশ সুপারের (SP) কার্যালয়ে তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। একইসঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে তাঁর।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন বারুইপুর এসপি অফিসে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি (Director General of Police) সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তদন্তে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে এবং ঘটনার প্রতিটি দিক দ্রুত খতিয়ে দেখা হয়, সেই বার্তাই প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।

গত রবিবার বারুইপুরের একটি স্থানীয় পুকুর থেকে ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এরপরই এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবারক সর্দার। তদন্ত এখনও চলছে।

ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর রাজ্যবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাতিতার বাবার সঙ্গেও ফোনে কথা বলে পরিবারের সমস্ত যৌক্তিক দাবির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। মঙ্গলবার সরাসরি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব রূপ দেখা গেল।

তবে মুখ্যমন্ত্রী ও নির্যাতিতার পরিবারের মধ্যে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, তদন্তের অগ্রগতি, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বারুইপুরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। সকালে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও এলাকায় পৌঁছান।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এলাকায় যায়। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক শিউলি সাহা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। একই সময়ে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনকারী তৃণমূলের দুই সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনাস্থলটি সায়নী ঘোষের সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিনিধিদল এলাকায় পৌঁছাতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের দাবি, কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয়, সে জন্য আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।

বারুইপুরের এই বহুচর্চিত ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি, নির্যাতিতার পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা এবং গণপিটুনির ঘটনার পৃথক তদন্ত—সবকিছুর উপরেই এখন নজর রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের তদন্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ এই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন