বারুইপুরকাণ্ডে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আর কোনও শিথিলতা নয়। মঙ্গলবার বারুইপুরের এসপি অফিসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঘটনার সময়ে পুলিশের যদি এক শতাংশও গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। কী ঘটেছে, তদন্তের গতি কেমন, পুলিশের ভূমিকা ঠিক কী ছিল— সব বিষয়ে ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে (Siddhanath Gupta) ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার দুপুরেই বারুইপুরে (Baruipur) পৌঁছে প্রথমে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু। শুধু তাঁরা নন, কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর যে যুবক গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি জানান, ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমি সন্তুষ্ট।” পাশাপাশি এ-ও বলেন, “নির্যাতিতার পরিবার আমার উপর আস্থা রেখেছে, এটাই আমার প্রাপ্তি।”
ঘটনার দিনই ফোনে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন শুভেন্দু। পরে একাধিক বার যোগাযোগ করে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি রাজ্যের সব থানার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। রাজ্য পুলিশের কর্তাদের বলেছি, এই ধরনের ঘটনা আটকাতে হবে।” ঘটনার পর থেকেই পরিবার এবং স্থানীয়েরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অভিযোগ, সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। সেই নিয়ে আগেই রাজ্য পুলিশের ডিজি জানিয়েছিলেন, পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে, প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীও একই ভাষায় পদক্ষেপের কথা জানিয়ে বলেন, “গোটা রাজ্যের সব থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) গাইডলাইন মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
শুভেন্দু আরও জানান, “আমি সব খতিয়ে দেখেছি। আগের দিন রাতে মিসিং ডায়েরি হয়েছিল। তার পরে কী কী হয়েছে, সব জেনেছি। সরকার কী কাজ করল, তা আপনারা জানতে পারবেন।” তিনি বলেন, “এক সপ্তাহ পর আমি আবার আসব। নির্যাতিতা এবং গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করব।” সরকারি সাহায্য বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুই পরিবারের উপরই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন তিনি জানান, তাঁরা কিছু কিছু বিষয় জানিয়েছেন, তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।
স্থানীয় সূর্যপুরে একটি পুলিশ আউটপোস্টের দাবি উঠেছে। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অবিলম্বে আউটপোস্ট তৈরির কথা বলেছি। প্রয়োজনে বাড়ি ভাড়া করে আউটপোস্ট করতে হবে। এক সপ্তাহ পর আমি আসব, তখন ওই আউটপোস্ট উদ্বোধন করব।”






