দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে (Baruipur) নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যে পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়, তার অদূরেই একটি ঝুপড়িতে ওই নাবালিকাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই চলে শারীরিক নির্যাতন। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ সত্য—জীবিত অবস্থাতেই কিশোরীকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরীকে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যান মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার নামে বাকি দুই অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, তিনজনেই সেখানে মাদক সেবন করেন। অভিযোগ, তারপরেই ওই নাবালিকার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুপড়িটি এলাকায় মদ ও গাঁজার আড্ডার জন্য পরিচিত ছিল।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, নির্যাতনের পর পা দিয়ে নাবালিকার গলায় চাপ দেওয়া হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় কিছুক্ষণ তাকে ওই ঝুপড়িতেই ফেলে রাখা হয়। রাত বাড়লে অভিযুক্তেরা দেহ সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে। সূত্রমতে, প্রথমে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় দেহ ভরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বস্তাটি ছিঁড়ে যাওয়ায় কাছের ওই পুকুরেই কিশোরীকে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, নির্যাতন ও আঘাতের জেরে কিশোরী অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সেই অবস্থাতেই তাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। আঘাত এবং জলে ডুবে যাওয়া—দুইয়ের সম্মিলিত ফলেই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, কিশোরীর দেহ পুকুরে ফেলে তিন অভিযুক্তই আলাদা আলাদা পথে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ইতিমধ্যেই মামলায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে না চাইলেও, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার বারুইপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari)। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি তদন্তের গতি নিয়েও তিনি সরাসরি খোঁজখবর নিতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ওই ঝুপড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ। তদন্তকারী দলের এক কর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা থেকে শুরু করে প্রতিবেশীদের জেরা—কিছুই বাদ রাখছে না পুলিশ। এই ঘটনা যাতে নজিরবিহীন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পথে শেষ হয়, সে দাবি ইতিমধ্যেই জোরালো হয়েছে গোটা রাজ্যে।



