রাজ্যসভার ৩ আসনে উপনির্বাচন, প্রার্থী দেবে তৃণমূল? বিজেপির নজর নিরঙ্কুশ জয়ে

পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) থেকে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) তিনটি শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার আবহে এই নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে আগামী ২৪ জুলাই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Ray), সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev) এবং প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Chik Baraik)-এর পদত্যাগে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) আদৌ প্রার্থী দেবে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান বিধানসভার সংখ্যাবিন্যাসে তৃণমূলের পক্ষে এই উপনির্বাচনে জয় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Bandyopadhyay) সোমবার দাবি করেছেন, বর্তমান সংখ্যার নিরিখে তাঁদের জয়ের সম্ভাবনা নেই। সেই কারণেই নব্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রার্থী না দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই বিষয়ে দলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

অন্যদিকে, মমতাপন্থী বিধায়কদের সংখ্যাও অত্যন্ত সীমিত বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। ফলে আদি তৃণমূলের পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে দলের কোনও শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন, দলত্যাগ এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বদলে দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিজেপি (Bharatiya Janata Party) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (National Democratic Alliance) তিনটি আসনেই জয় পাওয়ার আশায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। যদি তা হয়, তাহলে রাজ্যসভায় এনডিএর শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।

এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছে তিন রাজ্যসভার সদস্যের পদত্যাগের কারণে। সুখেন্দুশেখর রায় রাজ্যসভার সদস্যপদ এবং তৃণমূল—দুই পদ থেকেই ইস্তফা দিয়ে পরে বিজেপি-সমর্থিত রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেন। সুস্মিতা দেবও রাজ্যসভা ও দল ছাড়ার পর জানান, তিনি একসঙ্গে দুই রাজনৈতিক অবস্থানে থাকতে চান না। পরবর্তীতে তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগও তৃণমূলের সাংগঠনিক সংকটকে আরও প্রকট করে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। তাঁর ইস্তফার পরই তিনটি আসন শূন্য হয়ে যায় এবং নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের সূচি ঘোষণা করে।

এই উপনির্বাচন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর একাধিক বিধায়ক বিদ্রোহ করেছেন এবং তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদ পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)-র নামও সেই রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

এখন নজর থাকবে মনোনয়ন পর্বের দিকে। তৃণমূল শেষ পর্যন্ত প্রার্থী দেয় কি না এবং বিজেপি তিনটি আসনেই নিরঙ্কুশ জয় পায় কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন