‘গ্যালন গ্যালন মামলা হচ্ছে’! মহুয়ার জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ হাই কোর্টে, সুজিতের মামলায় দ্রুত শুনানির অনুমতি

ডিমকাণ্ডে মহুয়া মৈত্রের জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতির ‘গ্যালন গ্যালন মামলা’ মন্তব্যের মধ্যেই সুজিত বসুর মামলায় মিলল দ্রুত শুনানির অনুমতি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

একই দিনে কলকাতা (Kolkata) হাই কোর্টে (Calcutta High Court) হাজির হয়েছিল তিনটি বহুল চর্চিত রাজনৈতিক মামলা। সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)-র ডিমকাণ্ডে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে আদালত জানিয়ে দিল, নিয়ম মেনেই মামলার শুনানি হবে। অন্যদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)-র জামিন সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ (Atin Ghosh)-এর আগাম জামিনের মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বৃহস্পতিবার।

মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Justice Sougata Bhattacharyya) এজলাসে মহুয়া মৈত্রের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদন করা হয়। সেই সময় বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, “এই ধরনের মামলা গ্যালন গ্যালন দায়ের হচ্ছে।” আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মামলা দায়েরের অনুমতি রয়েছে, তবে নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই শুনানি হবে। ফলে মহুয়ার জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

এর আগে গত শুক্রবার মহুয়ার আইনজীবী আদালতের কাছে মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছিলেন। সেই আবেদনে দাবি করা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়ে পুলিশ সক্রিয় হলেও, তিনি যে অভিযোগ করেছেন তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণনগরের সাংসদ আদালতের কাছে আইনি সুরক্ষা চেয়ে আবেদন জানান। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও, তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদন মঙ্গলবার নাকচ করে দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১ জুলাই নদিয়ার (Nadia) কালীগঞ্জে (Kaliganj) তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভাকে ঘিরে। অভিযোগ, সভাস্থলে মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম, পোড়া বেগুন এবং অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয়। পাশাপাশি ‘চোর-চোর’ স্লোগানও ওঠে। সেই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করে মহুয়া পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন।

সাংসদের অভিযোগ ছিল, বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেও পুলিশ কার্যত দর্শকের ভূমিকায় ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বা ভিড় সরাতে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। পরে দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে মহুয়া অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেন।

অন্যদিকে একই দিনে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর জামিন সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন আদালতে তোলা হয়। ইডি (Enforcement Directorate)-র হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর আইনজীবী অভিষেক মনুসিঙ্ঘভি (Abhishek Manu Singhvi) আদালতে মামলাটি উল্লেখ করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে এবং মঙ্গলবার দুপুর ২টোর সময় শুনানির নির্দেশ দেয়।

এদিন জমি দুর্নীতিকাণ্ডে প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের আগাম জামিনের মামলার দ্রুত শুনানির আবেদনও আদালতে জানানো হয়। তবে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত (Justice Joy Sengupta) মন্তব্য করেন, বহু সাধারণ মানুষের মামলার শুনানি এখনও বাকি রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে অতীনের মামলায় তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার মামলাটি তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে একই দিনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলায় আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হলেও, প্রতিটি মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি এখন নজরে থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন