‘রাজনৈতিক শত্রু’ বলেও মহুয়ার পাশে বিকাশ! কালীগঞ্জের ‘ডিম থেরাপি’ কাণ্ডে সরব অখিলেশও

কালীগঞ্জে তৃণমূলের সভায় মহুয়া মৈত্রর উপর ডিম ও কাদা ছোড়ার অভিযোগ। ঘটনার নিন্দা করে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে পাশে দাঁড়ালেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সমর্থন জানালেন অখিলেশ যাদবও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূলের সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)-র উপর ডিম ও কাদা ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির নিন্দা করেছেন সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya) এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও একজন সাংসদের সঙ্গে এমন আচরণ গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিকাশরঞ্জন।

বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জ (Kaliganj)-এ তৃণমূলের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, সভাস্থলের বাইরে কালো পতাকা হাতে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ‘মহুয়া গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর সভাস্থলের জানালা লক্ষ্য করে ডিম ও কাদা ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিও পোস্ট করেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, তাঁকে এবং দলের কর্মীদের কার্যত ঘিরে রাখা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের বিজেপি সমর্থক বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, হামলার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এই ঘটনার পর ফেসবুক পোস্টে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য লেখেন, “মহুয়া মৈত্র আমার রাজনৈতিক শত্রু হতে পারেন। কিন্তু তিনি একজন সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে জুলুমবাজির কোনও অভিযোগ আছে বলে আমার জানা নেই। যেভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে, তা সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে লজ্জার। এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিটি মানুষের প্রতিবাদ করা উচিত।”

অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি আদালত ও লোকসভার স্পিকারের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের একাধিক নেতা অতীতেও বিভিন্ন জায়গায় ডিম নিক্ষেপের ঘটনার মুখে পড়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। কালীগঞ্জের এই ঘটনাও নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতকে উসকে দিয়েছে। ঘটনার দায়-দায়িত্ব নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে পাল্টা অভিযোগ চললেও, বিষয়টি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন