সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় এবার জাতীয় রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পথে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ডিম নিক্ষেপ, কালো পতাকা প্রদর্শন এবং হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে লেখেন, সোনারপুরে আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় এক বিরোধী নেতার উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, অভিষেককে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।
খাড়গে আরও বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতন্ত্রের অংশ হলেও হিংসা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনি বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান।
সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক্স-এ পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, এমন একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পুলিশের অনুপস্থিতি স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তাঁর মতে, গোটা ঘটনার পিছনে বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অখিলেশের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনকে আগাম জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। দলের দাবি, এই নিরাপত্তা ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সোনারপুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করলেও তৃণমূল এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করছে। তার মধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্য সমর্থন ও নিন্দা রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ এখন শুধুমাত্র রাজ্য রাজনীতির ইস্যু নয়, জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



