আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal) চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপ (Sikshashree Scholarship) প্রকল্প। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া যোগ্য পড়ুয়াদের জন্য এই প্রকল্পে বছরে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই নতুন শিক্ষাবর্ষের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই স্কলারশিপের জন্য আলাদা করে অনলাইনে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরও শিক্ষাশ্রী ও মেধাশ্রী প্রকল্প চালু রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি আগের মতোই চালু থাকবে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের সুবিধাও এ বছর অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কারা পাবেন শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপ?
শিক্ষাশ্রী প্রকল্প মূলত তফসিলি জাতি (SC) এবং তফসিলি জনজাতি (ST) সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য চালু করা হয়েছে। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের আওতাভুক্ত সরকারি বা সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত যোগ্য ছাত্রছাত্রীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
কত টাকা দেওয়া হয়?
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য প্রত্যেক পড়ুয়াকে বছরে ৮০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। অনুমোদনের পর সেই অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
কীভাবে আবেদন করবেন?
শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপের জন্য কোনও পৃথক অনলাইন আবেদনপত্র জমা দিতে হয় না। আবেদন গ্রহণের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের উপর। স্কুল থেকেই অফলাইন আবেদনপত্র পূরণ করানো হয় এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে তা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়। তাই যোগ্য পড়ুয়াদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করার যোগ্যতা
এই স্কলারশিপের জন্য আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি সরকার স্বীকৃত বা সরকারি বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির মধ্যে অধ্যয়নরত হতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর বৈধ SC, ST অথবা OBC জাতিগত শংসাপত্র থাকতে হবে।
আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে?
আবেদনপত্রের সঙ্গে আধার কার্ডের প্রতিলিপি, জাতিগত শংসাপত্রের কপি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রথম পাতার প্রতিলিপি, পরিবারের বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র, বৈধ মোবাইল নম্বর, ই-মেল আইডি এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও চাইতে পারে।
শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপের মূল উদ্দেশ্য হল আর্থিক অসুবিধার কারণে যাতে কোনও মেধাবী পড়ুয়ার পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত না হয়। তাই যাঁরা এই প্রকল্পের যোগ্য, তাঁদের দ্রুত নিজ নিজ বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।






