দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর তৃণমূলের (Trinamool Congress) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এল। ‘আসল তৃণমূল’-এর দাবিদার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) নাম না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ দলকে হাইজ্যাক করেছিলেন এবং তৃণমূলকে পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছিল।
শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়করা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, তৃণমূলকে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের হাত থেকে সরিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
নাম উল্লেখ না করেই তিনি অভিযোগ করেন, দলের অর্থের অপব্যবহার হয়েছে। তাঁর কথায়, “পার্টির চার টাকা খরচ হলে এক টাকা খরচ হয়েছে ওই চার্টার্ড বিমানের পিছনে। পার্টিকে পারিবারিক সম্পত্তি বানানো হয়েছিল। আমরা সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে। আমরাই আসল তৃণমূল।”
ঋতব্রত আরও দাবি করেন, ক্ষমতায় থাকার সময় দলের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ— যেমন বালি ও কয়লা পাচার— তার তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে মত দিয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁদের শিবির নতুন নেতৃত্বের দাবি তুলছে।
তিনি আরও জানান, তাঁদের শিবিরের সঙ্গে দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি একাধিক পুরসভা, জেলা পরিষদ এবং প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিরাও তাঁদের পাশে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে এবং কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত যোগাযোগ করবে বলেও জানান ঋতব্রত।
এদিকে বৈঠকের পর বিধায়ক সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha) বলেন, তাঁদের শিবির ইতিমধ্যেই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছে এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছে। সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব, প্রতীক ও দলীয় নিয়ন্ত্রণ ঘিরে যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে, এই বৈঠক তারই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন নির্বাচন কমিশন এই দাবিগুলির বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।






