আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (R.G. Kar Medical College and Hospital)-এর তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলায় ফের নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, মামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিসেরা (Viscera) নমুনা নষ্ট করা হয়েছে। প্রাক্তন এক ফরেনসিক আধিকারিকের একটি চিঠির ভিত্তিতে এই অভিযোগ সামনে এনে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টির স্বাধীন তদন্ত চেয়ে সিবিআই (CBI)-র তদন্তের আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এই নতুন দাবি মামলাটির তদন্তকে ঘিরে ফের প্রশ্ন তুলেছে।
পরিবারের আইনজীবীদের দাবি, প্রাক্তন এক ফরেনসিক আধিকারিকের লেখা একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারের তিন আধিকারিক ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছিলেন। সেই চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, এই কাজ নাকি তৎকালীন সরকারের নির্দেশে করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও কোনও তদন্তকারী সংস্থা বা আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে ওই চিঠি শিয়ালদহ আদালত (Sealdah Court)-এ জমা দিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিবিআই তদন্তের নির্দেশ চাওয়া হবে। একই চিঠিতে অতীতের কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ভিসেরা নমুনা সংক্রান্ত অভিযোগেরও উল্লেখ রয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
এদিকে পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, আরজি করের ঘটনায় ফরেনসিক তদন্তের সময় ঘটনাস্থলে একজন জুনিয়র স্তরের টক্সিকোলজিস্ট (Toxicologist)-কে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী সেখানে বায়োলজিস্ট (Biologist) এবং ফিজিসিস্ট (Physicist)-সহ বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। তবে এই অভিযোগগুলিও এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
অন্যদিকে, বর্তমান রাজ্য সরকার এই ঘটনায় দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্ন (Nabanna)-এ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাতের সময় দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার এই ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত পৃথক মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ (Sandip Ghosh)-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়ার কথা আদালতে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। এর ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিচারপ্রক্রিয়া এগোনোর পথ প্রশস্ত হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে।
আরজি কর মামলার মূল তদন্ত এবং নতুন করে ওঠা ভিসেরা নমুনা সংক্রান্ত অভিযোগ—দুটি বিষয়ই এখন আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।






