নদিয়ার (Nadia) শান্তিপুর (Shantipur)-এর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলে ঢুকে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার (Shantipur Police Station) পুলিশ।
শুক্রবার বড় জিয়াকুর পূর্ণচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে (Baro Jiakur Purnachandra High School) সকাল থেকেই অভিভাবকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশীষ বিশ্বাস (Ashish Biswas) দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করতেন। সেই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা।
বিক্ষোভ চলাকালীন একদল উত্তেজিত ব্যক্তি স্টাফরুমে ঢুকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। অভিযোগ, তাঁকে মারধর করা হয় এবং লক্ষ্য করে একাধিক ডিম ছোড়া হয়। একইসঙ্গে স্কুল চত্বরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁকে পুলিশ গাড়িতে তোলার সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ “বল হরি, হরিবোল” স্লোগান দেন।
অভিযোগকারী পরিবারগুলির দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করতেন এবং সেলফি তোলার চেষ্টা করতেন। এমনকি বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রজেক্টের নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ। এক ছাত্রীর পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার স্কলারশিপের ফর্ম জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। এরপর ওই ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
শুক্রবার সেই অভিযোগের জেরে স্কুলের সামনে অভিভাবকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। তা সত্ত্বেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপূর্ব বণিক (Apurba Banik) জানান, একজন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে এবং সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও যোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আশীষ বিশ্বাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, স্কলারশিপের আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় নথি অসম্পূর্ণ থাকায় সেটি গ্রহণ করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর রানাঘাটের (Ranaghat) সাংসদ জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar) অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






