হাওড়ার (Howrah) শ্যামপুরে (Shyampur) দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল। নাকল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সদানন্দ দাস-এর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, দুটি মোটরবাইকে আগুন এবং পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাকল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সদানন্দ দাসের বিরুদ্ধে আবাস যোজনা প্রকল্পে অনিয়ম, স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুক্রবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হন একদল গ্রামবাসী। প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে ফেলে এবং জোর করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে। ঘরের সোফা-সহ একাধিক আসবাবপত্র বাইরে এনে ভাঙচুর করা হয়। বাড়ির সামনে রাখা দুটি মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং শিশুদের স্কুলে যাওয়ার পোশাকও পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সময় সদানন্দ দাস বাড়িতে ছিলেন না। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেন। তাঁর অভিযোগ, গোটা হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শ্যামপুর থানা (Shyampur Police Station)-র পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় র্যাফ। পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সদানন্দ দাসের দাবি, তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালানো হয়েছে এবং বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।






