ডায়মন্ড হারবারে (Diamond Harbour) তৃণমূলের (TMC) সেবাশ্রয় প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হল। নতুন করে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অনুমোদনহীন চিকিৎসা পরিষেবা-সহ বিভিন্ন আইনে মামলা রুজু করেছে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসডিপিওকে। ফলে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের উপর।
রায়নগরের বাসিন্দা সুকদেব দাসের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সেবাশ্রয়ের নামে বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন স্বাস্থ্য পরিষেবা চালানো হয়েছে। সেখানে প্রতারণা, জালিয়াতি, বেআইনিভাবে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং আইনবহির্ভূত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেবাশ্রয় প্রকল্পটি প্রথম শুরু হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে। ৭৫ দিনের এই স্বাস্থ্য শিবিরে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রচার করা হয়। পরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও এই প্রকল্পের সম্প্রসারণ ঘটে এবং তা রাজনৈতিকভাবেও যথেষ্ট আলোচনায় আসে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর আগেও ডায়মন্ড হারবারের অভিজিৎ দাস ওরফে ববি একই ধরনের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এবার নতুন অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে অনুমোদনহীন চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনা করা হয়েছে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত একাধিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পাশাপাশি Drugs and Cosmetics Act, Atomic Energy Act, National Medical Commission Act, PCPNDT Act এবং West Bengal Clinical Establishments Act-এর বিভিন্ন ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও-র নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল।
এদিকে, সেবাশ্রয় প্রকল্পে যুক্ত থাকা এক চিকিৎসক আগেই শিবির পরিচালনা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, শিবিরে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা যেমন এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হত। পরে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্রতিনিধিরা রোগীদের ভর্তি করিয়ে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার বিল মেটানোর ব্যবস্থা করতেন। ওই চিকিৎসকের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
পুলিশের নতুন FIR-এর পর সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে আইনি তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।






