প্রধান বিচারপতিকে বিরোধীদের বিস্ফোরক চিঠি! নির্বাচন কমিশন, SIR, EVM নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ

রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ বিরোধী নেতাদের যৌথ চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, SIR, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন, EVM ও কেন্দ্রীয় সংস্থার ব্যবহার নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধান বিচারপতির (Chief Justice of India) কাছে যৌথ চিঠি পাঠালেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। সেই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচন, বিহারের (Bihar) বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং ইভিএম (EVM) ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)-সহ বিরোধী শিবিরের বহু নেতা।

২৮ জুন ২০২৬ তারিখে লেখা এই চিঠিতে বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে তাঁরা বিচারপতিকে এভাবে চিঠি লিখতেন না। কিন্তু তাঁদের মতে, দেশের গণতন্ত্র বর্তমানে সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখার স্বার্থেই তাঁরা এই আবেদন জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তোলা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, ২০১৪ সালের পর থেকে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব বেড়েছে এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিশেষভাবে বিহারের (Bihar) Special Intensive Revision (SIR)-এর প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া ছিল অস্বচ্ছ, বিভ্রান্তিকর এবং সাধারণ ভোটারের জন্য অত্যন্ত জটিল। দরিদ্র, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যে অস্বাভাবিক সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হয়, যার ফলে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বহু ভোটারকে ভুলভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

শুধু ভোটার তালিকাই নয়, ইভিএম (Electronic Voting Machine) ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে ইভিএম নিয়ে বৃহত্তর জনআলোচনা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ব্যালট পেপার ব্যবস্থায় ফেরার বিষয়েও গুরুত্ব সহকারে ভাবার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সিবিআই (CBI), ইডি (ED) এবং এনআইএ (NIA)-র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচিত সরকারগুলিকে অস্থির করা এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও এই সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতারা।

চিঠির শেষ অংশে বিচারব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থার কথা উল্লেখ করে বিরোধী নেতারা লিখেছেন, যখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি ব্যর্থ হয়, তখন মানুষ শেষ ভরসা হিসেবে আদালতের দিকেই তাকিয়ে থাকে। তাই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস অটুট রাখতে বিচারব্যবস্থার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেই তাঁদের মত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন