দুর্গাপুজোর আগেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’ (Swasthya Sathi) প্রকল্পের উপভোক্তাদের যাচাই-বাছাই শেষ করে যোগ্যদের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat)-এর আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রশাসনকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার নবান্ন (Nabanna)-এ উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বাস্তবায়নে আর কোনও দেরি করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করতে একটি বিস্তারিত ‘ইমপ্লিমেন্টেশন ক্যালেন্ডার’ (Implementation Calendar) তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি অর্থের ব্যবহার যাতে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নাম ও যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ্যে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও সমস্যায় পড়লে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
এছাড়াও জেলা ও ব্লক স্তরের আধিকারিকদের নিয়মিতভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এতে মানুষের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিও করা যাবে। প্রকল্পের সমস্ত তথ্য ও উপভোক্তাদের ডেটাবেস স্বচ্ছ ও হালনাগাদ রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পূর্ববর্তী সরকারের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের পরিবর্তে ধাপে ধাপে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। যোগ্য উপভোক্তাদের এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর ফলে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অনুমোদিত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ মিলবে এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়া যাবে।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের পরিষেবা চালু থাকবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দুর্গাপুজোর আগেই উপভোক্তাদের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অনেকটাই এগিয়ে নেওয়া।



