বিধায়ক প্রশিক্ষণ শিবিরে ঐক্যের বার্তা, বাম-তৃণমূলকে তোপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিধায়ক প্রশিক্ষণ শিবিরে গণতন্ত্র শক্তিশালী করার আহ্বান শুভেন্দু অধিকারীর। একই মঞ্চ থেকে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়েও কড়া মন্তব্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার (Biswa Bangla Convention Centre)-এ আয়োজিত বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে একদিকে যেমন সব দলের জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), অন্যদিকে তেমনই বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর শাসনকালকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-কে এগিয়ে নিতে দলমত নির্বিশেষে সকল বিধায়ককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার আয়োজিত এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের বিধায়কদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে আসা বিধায়কদের জন্য এই ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আইনসভা পরিচালনা, প্রশাসনিক কাজ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের আরও দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বক্তৃতার শুরুতে অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের জন্য বিধানসভার সচিবালয়-সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন বিধায়কদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত বিশেষজ্ঞ ও অতিথিরাও এই প্রশিক্ষণ পর্বে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এরপরই রাজনৈতিক প্রসঙ্গে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন এবং তৃণমূল সরকারের সময়কালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, অতীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বদলে দলীয় কার্যালয় থেকেই বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ন্ত্রিত হতো। যদিও তৃণমূল সরকারের প্রসঙ্গে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তাঁর কথায়, বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা করাই শোভন।

তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হতো না। সরকারি প্রকল্প বা প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আমন্ত্রণ জানানো হতো বলে তাঁর দাবি। এমনকি, গত পাঁচ বছরে বিরোধী দলনেতাকে একবারও কোনও সরকারি কর্মসূচিতে ডাকা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলনেতাকে বারবার সাসপেন্ড করার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

একইসঙ্গে তিনি বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে নিতে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mukherjee) অবদানের কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, বাংলার ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের ধারাকে আগামী দিনেও অক্ষুণ্ণ রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে যেমন রাজনৈতিক আক্রমণের সুর ছিল, তেমনই নতুন বিধায়কদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপরও জোর দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল লক্ষ্য দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করা এবং পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন