পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform Civil Code-UCC)। রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, সোমবারই রাজ্য বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ করতে পারে সরকার। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিল পেশের সূচি প্রকাশ হয়নি, তবু সম্ভাব্য এই পদক্ষেপকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী— দুই পক্ষই প্রস্তুতি শুরু করেছে।
বিধানসভা সূত্রের খবর, বিলটি পেশ হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা ও অন্যান্য সদস্যদের বক্তব্য রাখার জন্যও সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধু অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নয়, সরকার যে সমস্ত নতুন বিল আনবে, তার মধ্যে বিতর্কিত বলে মনে হওয়া প্রতিটি বিলেরই বিরোধিতা করা হবে। তাঁর দাবি, বিলের প্রতিটি ধারা খতিয়ে দেখে বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হবে তাঁদের শিবির।
অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলও একই ইস্যুতে বিরোধিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। ওই শিবিরের নির্বাচিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovondeb Chattopadhyay) বিধানসভায় দলের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। পাশাপাশি বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)-ও আলোচনায় অংশ নিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা।
সরকারি মহলের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির উদ্দেশ্য হল রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের জন্য ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা। তবে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে আলাদা বিধান বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। বিলের সম্ভাব্য প্রভাব মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ এবং জৈন সম্প্রদায়ের উপর কী হতে পারে, সেই বিষয়েও প্রশাসনিক স্তরে পর্যালোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই অসম (Assam), উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) এবং গুজরাট (Gujarat)-এ কার্যকর হওয়া অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আইনি কাঠামো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নের উত্তর তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর।
এদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, বিলটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই বিল পেশ হলে তাৎক্ষণিক বিরোধিতার পাশাপাশি বিস্তারিত বিতর্কের দাবিও তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে রাজ্য বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন হয়নি। ফলে বিলটি পেশ হলে আলোচনার জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হতে পারে বলেও জোর জল্পনা চলছে। যদিও সোমবারই বিলটি পেশ হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সম্ভাব্য এই বিলকে কেন্দ্র করে বিধানসভার আসন্ন অধিবেশন যে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।






