নতুন মরশুম শুরুর আগেই ইস্টবেঙ্গলের ডাগআউট নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। গত মরশুমে সাফল্য এনে দেওয়া কোচ অস্কার ব্রুজো (Oscar Bruzon) ক্লাব ছাড়ার পর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে ছিল লাল-হলুদ শিবির। সেই দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ভারতীয় ফুটবলে অত্যন্ত পরিচিত মুখ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস (Antonio López Habas)।
ক্লাব সূত্রের খবর, হাবাসের কাছে ইতিমধ্যেই কোচ হওয়ার প্রস্তাব এবং চুক্তিপত্র পাঠানো হয়েছে। যদিও এখনও চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হয়নি। সেই কারণেই ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। তবে কলকাতা ময়দানের একাধিক সূত্রের দাবি, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে খুব শীঘ্রই তাঁকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।
ভারতীয় ফুটবলে হাবাসের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। একাধিক ক্লাবের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ২০২৩ সালে তিনি মোহনবাগান (Mohun Bagan)-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন। পরে মরশুমের মাঝপথে প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়ে দলকে লিগ শিল্ড জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরপর ইন্টার কাশী (Inter Kashi)-র দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্লাবের সাফল্যেও অবদান রাখেন।
এবার সেই হাবাসই যদি ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নেন, তাহলে কলকাতা ডার্বির ইতিহাসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যোগ হবে। কারণ, সবুজ-মেরুন শিবিরে সাফল্যের পর এবার তিনি লাল-হলুদের ডাগআউটে বসতে পারেন।
গত মরশুমে অস্কার ব্রুজোর নেতৃত্বে দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় স্তরে বড় সাফল্য পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই সাফল্যের পরও নতুন মরশুমের আগে ক্লাবের বিনিয়োগকারী সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং দলগঠন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিদায়ের সময় অস্কার ব্রুজো সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ইস্টবেঙ্গল তাঁর চুক্তি নবীকরণের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছিলেন বহু লাল-হলুদ সমর্থক।
নতুন মরশুমে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এশিয়ার মঞ্চেও খেলবে ইস্টবেঙ্গল। সেই কারণে অভিজ্ঞ কোচ নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ক্লাব। এখন দেখার, চুক্তিতে সইয়ের পর আন্তোনিও লোপেজ হাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন কি না এবং তাঁর হাত ধরে লাল-হলুদ শিবির নতুন সাফল্যের পথে এগোতে পারে কি না।






