রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের পথে কি এগোচ্ছে আদানি গোষ্ঠী (Adani Group)? সূত্রের খবর, নিউ টাউন (New Town)-এ অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও মেডিক্যাল শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা ইতিমধ্যেই হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে দুর্গাপুজোর আগেই এই বহুচর্চিত প্রকল্পের শিলান্যাস হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের দাবি, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে বৈঠকে আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার করণ আদানি (Karan Adani) পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান। সেই বৈঠকের পর থেকেই নিউ টাউনে একটি বৃহৎ হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিতে পারে আদানি গোষ্ঠী। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দে সরকার সবুজ সংকেত দিলে দ্রুত পরবর্তী ধাপে এগোতে চায় সংস্থাটি।
সূত্রের খবর, নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া-টু (Action Area II)-তে প্রায় ৫২ একর জমিকে সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পরিকাঠামোর নকশা অনুমোদনের পরই শিলান্যাসের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকার বা আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, নিউ টাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি (Bengal Silicon Valley)-তে ইতিমধ্যেই আদানি গোষ্ঠীর ডেটা সেন্টার এবং বেঙ্গল টেক পার্ক (Bengal Tech Park)-এর কাজ চলছে। ওই প্রকল্পগুলির জন্য সংস্থাকে আগে থেকেই প্রায় ৫৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন হাসপাতাল প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ৫২ একর জমির প্রয়োজন বলে জানা গিয়েছে।
এই প্রস্তাবিত ক্যাম্পাস শুধুমাত্র একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একই ক্যাম্পাসে ১৫০ আসনের এমবিবিএস (MBBS) মেডিক্যাল কলেজ, ৬০ আসনের নার্সিং কলেজ এবং ৮০ আসনের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বা এমডি (MD) কোর্স চালুরও ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০ জন গবেষক একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং মেডিক্যাল গবেষণার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত জমি বরাদ্দ, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের উপরই নির্ভর করছে গোটা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। সরকারি ঘোষণা এবং আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা পড়ার পরেই এই বিনিয়োগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।






