কলকাতা (Kolkata)-তে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার (West Bengal Legislative Assembly) নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য আয়োজিত দু’দিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধন করে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে বিধায়কদের শুধু সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং মানুষের সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই হওয়া উচিত আইনসভার মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নবজাগরণের নেতৃত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
ওম বিড়লা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি বিধায়ক গোটা রাজ্যের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষারও প্রতিনিধি। তাই আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং বিতর্ক—সব ক্ষেত্রেই জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, সুস্থ গণতন্ত্রে মতবিরোধ থাকবেই, কিন্তু সেই মতবিরোধ যেন তথ্য, যুক্তি এবং গবেষণাভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাঁর মতে, শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রতিটি বিতর্কের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাবও তুলে ধরা উচিত।
নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে লোকসভার স্পিকার বলেন, একজন কার্যকর জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় গুণ হল আজীবন শেখার মানসিকতা। অতীতের গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক, ঐতিহাসিক আইন এবং সংসদীয় রীতিনীতি নিয়মিত অধ্যয়নের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, বক্তব্য রাখার সুযোগ না থাকলেও বিধানসভার কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে অন্য সদস্যদের বক্তব্য শোনার উপরও জোর দেন। তাঁর কথায়, আইনসভার অধিবেশনই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শিক্ষার ক্ষেত্র।

ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)-এর ব্যবহার প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন ওম বিড়লা। তিনি জানান, ডিজিটাল সংসদ (Digital Sansad) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন দেশের সংসদ ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিতর্ক এবং আইন প্রণয়নের অভিজ্ঞতা সহজেই জানা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের কাজকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারবেন বলেও মত তাঁর।
পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই রাজ্য দেশের সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম কেন্দ্র। রাজা রামমোহন রায় (Raja Rammohan Roy), স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda), বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chattopadhyay), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore), নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Subhas Chandra Bose) এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syama Prasad Mookerjee)-এর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আধুনিক উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিধানসভায় বহু তরুণ এবং প্রথমবার নির্বাচিত সদস্য রয়েছেন। এটি রাজ্যের জন্য নতুন ভাবনা, উদ্ভাবন এবং জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার বড় সুযোগ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই আইন ও নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
দু’দিনের এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, প্রশ্নোত্তর পর্ব, সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থা, বাজেট প্রক্রিয়া, সংসদীয় বিশেষাধিকার, নৈতিকতা এবং ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA)-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সেশন অনুষ্ঠিত হবে। ৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর. এন. রবি (R. N. Ravi)-র সমাপনী ভাষণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।






